তামাক সেবন মানুষের অনেক পুরনো নেশা। নানা শ্রেণিপেশার মানুষ নানাভাবে তামাক সেবন করেন। আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে শহর, নগর, বন্দর সবখানে অবলীলায় মানুষ ধূমপান করেন। এতে তারা নিজেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনি আশপাশের অন্যদেরও ক্ষতি হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, ক্ষতি উপলব্ধি করার পরও তারা এ থেকে যেমন বিরত থাকেন না, তেমনই আইন প্রয়োগে শৈথিল্যও স্পষ্ট।

সামাজিক সংগঠনগুলো তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করছে।

গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় তামাকবিরোধী ১৭টি সংগঠনের সমন্বয়ে একটি সমাবেশ হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত এবং ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু (১৫ বছরের নিচে) পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নানা রোগে ভুগছে। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, পঙ্গুত্ববরণ করে বছরে প্রায় চার লাখ মানুষ। পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৪২.৭ শতাংশ মানুষ।

প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ হলেও তা যেমন কেউ মানেন না তেমনি এই আইন কার্যকর করারও উদ্যোগ নেই।

ধূমপানবিরোধী আইন যেন আছে শুধু কাগজে-কলমেই। অন্য দিকে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়া নিষিদ্ধ থাকলেও প্রায়ই তা লঙ্ঘন হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা নানা কৌশলে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করা তামাকজাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়েই যাচ্ছে।

তামাকজাত দ্রব্যের প্রতি মানুষের ঝোঁকপ্রবণতা কমাতে হবে। এটি করতে হবে মানুষের কল্যাণের জন্যই। জনস্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো কাজ রোধ করতে সরকার বাধ্য।

দেখা যাচ্ছে, ধূমপান বন্ধের ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা আছে, যে কারণে দেশে ধূমপান দিন দিন বাড়ছেই। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের উপরে ধূমপায়ীর সংখ্যা শতকরা ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০১৯ সালেও ছিল ৩৫ শতাংশ। এখন ছেলেদের মধ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। মেয়েদের সংখ্যা ২০১৯ সালে ছিল ৭ শতাংশের মতো। ধূমপানে বিশ্বে আমাদের অবস্থান অষ্টম।

আমরা রাতারাতি ধূমপান বা তামাকের ব্যবহার বন্ধ করতে পারব না সত্য; কিন্তু এর ব্যবহার কমিয়ে আনতে তো আমাদের প্রচেষ্টার কমতি থাকা উচিত না। সেই প্রচেষ্টারই অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকারের তামাকসংক্রান্ত আইন দুর্বল বিধায় তা দিয়ে কাজ হচ্ছে না।

তামাকবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অনবরত তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইনের কথা বলা হচ্ছে। তাই সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইন প্রণয়নে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পৃথিবীতে মানুষ ভালো-মন্দ দুই দিকেই আকৃষ্ট হয়। এটি মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু মন্দের দিকে আকৃষ্ট হওয়া থেকে মানুষকে বিরত রাখতে হয়। এ জন্য সমাজে নানা আয়োজন প্রয়োজন। তামাকজাত দ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করার আয়োজন সামান্য এবং দুর্বল। নেই বললেও চলে।

এ ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি সবার সম্মিলিত সক্রিয় প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকা জরুরি। এর মধ্য দিয়ে মানুষের তামাকজনিত রোগে মৃত্যুর প্রকোপ বন্ধ হবে। একটি সুস্থ সুখী সমাজ গড়ে উঠবে।