কোরবানির ঈদে রাজধানীতে বেশ কয়েক লাখ পশু জবাই হয়। সঠিক প্রক্রিয়ায় সময়মতো দ্রুত বর্জ্য না সরানোয় নগরবাসীকে প্রতি বছর এক অস্বাস্থ্যকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। ঈদের আগে এবার সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশুবর্জ্য অপসারণে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এজন্য জোরালো প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়। বাস্তবে দেখা গেল, বেশ কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও করপোরেশনের আওতাধীর এলাকায় পরিপূর্ণ বর্জ্য নিষ্কাশন হয়নি। তাই ময়লা আবর্জনা ও তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। এমনকি পশুর হাটগুলোর আবর্জনা অপসারণ করা হয়নি সময়মতো। পরিস্থিতি আগের বছরের চেয়ে কিছু উন্নতি হলেও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি।
রাজধানীর ঘরে ঘরে পশু জবাই হয়। পশুর নাড়িভুঁড়ি, রক্ত ও উচ্ছিষ্ট অংশ পরিত্যক্ত হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে এগুলো অপসারণ না করলে পরিবেশ দূষিত হয়ে যায়। পাড়া মহল্লায় এবারো পশুর হাড়গোড়, চামড়া ও খুলির অংশবিশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার অনেক এলাকায় পরিত্যক্ত কোরবানির বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ বের হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে ফেলেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে আকস্মিক রাস্তায় বের হন। তিনি রাজধানীর বিভিন্ন অংশে ময়লা আবর্জনা দেখতে পান এবং কর্তব্য পালনে গাফিলতি সরেজমিন প্রত্যক্ষ করেন। শুধু কোরবানির বর্জ্য নয়, নিয়মিত ময়লা আবর্জনাও যেখানে সেখানে পড়ে থাকতে দেখেন। এজন্য তাৎক্ষণিক দুই কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়া হয় এবং আরো ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এদিকে হাটের ময়লা আবর্জনা অপসারণে সিটি করপোরেশন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। গণমাধ্যমের খবর, কোরবানির চারদিন পরও রাজধানীর সব হাট উন্মুক্ত হয়নি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সেগুলো পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়নি। বাঁশ-খুঁটি রয়ে গেছে। শুকনো গোবর ও যত্রতত্র খড়কুটোর স্তূপ পড়ে আছে। মাঠ দখল করে রেখেছেন ইজারাদাররা। তারা শর্ত পালন করেননি। কোরবানির পশুর হাটের ইজারা পেতে এসব শর্ত পালন ছিল বাধ্যতামূলক। শাস্তি হিসেবে জামানত বাজেয়াপ্ত এবং কালোতালিকাভুক্ত করার বিধান আছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগামীতে তারা হাট ইজারা পাবেন না। এ শাস্তি কার্যকর করলে আশা করা যায়, আগামীতে ইজারাদাররা এমন গাফিলতি করবেন না।
এবার পশুবর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন সক্রিয় ছিল। দুটো করপোরেশন বিপুল বর্জ্য দ্রুততার সাথে অপসারণ করেছে। তার পরেও ঈদের পর রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে তা যথেষ্ট ছিল না। পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ এবং রোগজীবাণু রাজধানীবাসীর জন্য অসহনীয়। পরিস্থিতি আরো তীব্র হওয়ার কারণ ঘনবসতি। কোরবানির পরপর পচনশীন দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য থেকে বাঁচতে হলে কর্তৃপক্ষের আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের ময়লা অপসারণকারী দলকে সক্ষম হতে হবে।
কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ সারা দেশে একটি সমস্যা। নাড়িভুঁড়ি ও রক্ত উন্মুক্ত জায়গায় ফেলে রাখা হয়। কঠিন হলেও প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা অসম্ভব নয়। এজন্য দরকার ব্যাপক জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা।