মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রাতের আঁধারে পদ্মা সেতু প্রকল্পের এলিভেটেড রেললাইনের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। রেললাইনের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাটি কেটে নিয়েছে চক্রটি। রেললাইনের পিলারের নিচে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে এলিভেটেড রেললাইনের পিলার ও অবকাঠামো।
একটি সহযোগী দৈনিকের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে সিরাজদিখান উপজেলার এ এলিভেটেড রেললাইন গিয়ে মিলেছে পদ্মা সেতু রেললাইনে। বাসাইল ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রাম থেকে বালুচর ইউনিয়নের বেগমবাজার পাইন্যাচর পর্যন্ত রেললাইনের নিচ থেকে প্রতি রাতেই মাটি কেটে নিচ্ছে চক্রটি। মাটি কেটে মাহিন্দ্র কিংবা ট্রাকে করে বিক্রির জন্য নিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।
মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে রেলনাইনের নিচের পিলার ঘেঁষে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। এ দিকে মাটি কাটার সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের নাম ভয়ে প্রকাশ করতে চাননি স্থানীয়রা। তাদের ব্যাপারে মুখ খুললে নানা ধরনের হয়রানিসহ অহেতুক মামলার আসামি হওয়া এমনকি জীবন হানির শঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন।
পলাশপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, এই রেললাইন নির্মাণের আগে একটি সরকারি রাস্তা ছিল। রেললাইন নির্মাণকালে ওই রাস্তার মাটি ফেলে শ্রমিকদের যান চলাচলের জন্য অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়। এতে এলাকাবাসীও স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারতো। কিন্তু এখন রাতের আঁধারে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই মাটি কেটে বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে দু’টি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। আমার ওপর হামলাও হয়েছে। থানায় অভিযোগ করেছি।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা আক্তার বলেন, মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্তরা আগে থেকেই বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সে সময় কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি। এর পরও মাটি কাটার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পদ্মা সেতুর মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা অবকাঠামো ঝুঁকিতে ফেলে রেলের মাটি কেটে নিয়ে যাবে তা হতে পারে না। মাটি কাটতে অবশ্যই সময়ের প্রয়োজন হয়। সুতরাং দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে কঠিন কাজ না। লোক দেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব মাটি লুটকারী দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান জোরদার করতে হবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপরাধীরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজের ভালো মানুষদেরও উচিত এসব অপরাধীকে গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা। কিছু অপরাধীর কাছে কোনো সমাজ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।