জালিয়াতির অভিযোগে দুই হাজার ভারতীয়ের ভিসা আবেদন বাতিল করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার এই পদক্ষেপ করেছে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
এক্স বার্তায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘কনস্যুলার টিম ইন্ডিয়া অযোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করেছে, যারা আমাদের নীতি লঙ্ঘন করে প্রায় দুই হাজার ভিসার আবেদন করেছিল। অবিলম্বে আমরা সেই আবেদনগুলো বাতিল করছি এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর সুবিধা স্থগিত করছি।’
দূতাবাস আরো বলেছে, ‘আমরা প্রতারণামূলক কার্যকলাপবিরোধী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। প্রতারণার প্রতি আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।’
এদিকে, ২০০০ ভিসার আবেদন বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পড়ুয়া-সহ আবেদনকারীরা। আর লাখ লাখ টাকা খরচ করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিবাবকরা।
অন্যদিকে, মার্কিন দূতাবাসের অভিযোগের ভিত্তিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার পর দিল্লি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮, ৩৩৬ এবং ৩৪০ ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬(ডি) ধারার আওতায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রান্তে জড়িত আরো ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া এফআইআরে উল্লেখ্য করা হয়েছে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে এই ঘটনায় জড়িত রয়েছেন। যারা ২০২৪ সালের মে থেকে আগস্টের মধ্যে ভিসা জালিয়াতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ।
এফআইআর-এ বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসা পেতে অভিযুক্তরা ভিসা এজেন্ট এবং আবেদনকারীদের ব্যাংক, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থান যাচাইয়ের মতো জাল নথি তৈরিতে যুক্ত ছিলেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জালিয়াতির ২১টি ঘটনা চিহ্নিত করেছে, যেখানে আবেদনকারীরা এজেন্ট এবং নথি সরবরাহকারীদের সহায়তায় মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন।
তদন্তকারীদের অনুমান, আবেদনকারীরা এই জালিয়াতির জন্য ১ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন এজেন্টদের। মার্কিন দূতাবাসের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিভিন্ন পরামর্শদাতাদের সাথে সম্পর্কিত আইপি ঠিকানাগুলো সনাক্ত করা হয়েছে, যা বেশ কয়েকটি আবেদনজুড়ে প্রতারণামূলক কার্যকলাপগুলো তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যাওয়ার ক্ষেত্রে বি-১ ভিসা প্রয়োজন হয়। ঘুরতে যাওয়ার সময় লাগে বি-২ ভিসা। পরিবারের সদস্য বা কোনো বন্ধুর সাথে দেখা করতে, কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে সে দেশে যেতে গেলেও বি-২ ভিসারই প্রয়োজন হয়। সাধারণত বি-১ এবং বি-২ ভিসা একই সাথে দেয়া হয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে ভারতে বি-১, বি-২ ভিসার আবেদন করলে অপেক্ষা করতে হত ৯৯৯ দিন। সম্প্রতি ভিসা নবীকরণের সময়সীমা ১২ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৪৮ মাস করা হয়। তারপর থেকে বি-১, বি-২ ভিসার ইন্টারভিউয়ের জন্য অপেক্ষার সময় কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল। দিল্লি এবং মুম্বইয়ে এখন এই ভিসার ইন্টারভিউয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৪৪০ দিন। চেন্নাইয়ে ৪৩৬ দিন, হায়দরাবাদে ৪২৯ দিন, কলকাতায় ৪১৫ দিন। এবার নবীকরণের সময়সীমা কমিয়ে দেয়ার ফলে মার্কিন দূতাবাসে আবেদনকারীর ভিড় আরো বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস