শুক্রবার মিয়ানমারে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মধ্য মিয়ানমারের স্যাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৭। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষতির আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি। তবে ইউএসজিএস বলছে, প্রাণহানি ১০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত হতে পারে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে, যা দেশটির জিডিপির বড় অংশকেই প্রভাবিত করতে পারে।
গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে আন্দোলন ও অর্থনৈতিক সঙ্কট চলছে, যা এই দুর্যোগ মোকাবিলাকে আরো কঠিন করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাগাইং ফল্টে ‘স্ট্রাইক-স্লিপ’ ধরণের নড়াচড়ার কারণে এই ভূমিকম্প হয়েছে। ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেট ও সানডা প্লেটের অবস্থানের কারণে এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক বিল ম্যাকগুইয়ার জানান, এটি মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ডে গত শত বছরে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রেবেকা বেল বলেন, স্যাগাইং ফল্ট অনেক লম্বা ও সরলরেখায় বিস্তৃত, তাই ভূমিকম্পের প্রভাব বড় অঞ্চলে পড়েছে। ভূমিকম্পটি কম গভীরতায় হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইতোমধ্যে ৬.৭ মাত্রার আফটারশক হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরো ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র : এএফপি/ফ্রান্স ২৪