মিয়ানমারে শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সেখানকার বেশ কয়েকটি ভবন ও সেতু ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির উত্তর-পশ্চিমের শহর সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে দেশটির ৯১ বছর বয়সী ঐতিহ্যবাহী সাগাইং সেতুও ভেঙে পড়েছে।

সেতুটি মান্দালয় ও সাগাইং অঞ্চলের মধ্যে ইরাবতী নদীর উপর বিস্তৃত। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা সেতুটি তৈরি করেছিল। মিয়ানমারের আভা ও সাগাইং অঞ্চলের মধ্যে সংযোগকারী সেতুটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। এর ক্ষয়ক্ষতির বেশ কয়েকটি ভিডিও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কলকাতা ও মণিপুরের কিছু অংশ এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেও মৃদু কম্পনের খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্প হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও ও ছবি প্রকাশিত হয়। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, থাইল্যান্ডে একটি নির্মাণাধীন আকাশচুম্বী ভবন সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়েছে। এই ঘটনায় ৪৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আকাশচুম্বী ভবনের ইনফিনিটি পুলের পানি ছাদ থেকে ছলকে পড়ছে। ভূমিকম্পের কারণে থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

মিয়ানমারের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মান্দালয়ে একটি দুই তলা আবাসিক ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। ভবনটি পাশের কাঠামোর দেয়ালে ভর দিয়ে আছে।

ভূমিকম্পের সময় ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিকদের একটি দল নেপিডোর জাতীয় জাদুঘরে ছিল। তারা জানায়, এ সময় ছাদ থেকে আস্তরণ টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে এবং দেয়াল ফেটে যায়। ইউনিফর্ম পরা কর্মীরা দৌড়ে বাইরে চলে আসেন। তাদের কেউ কেউ কাঁদছিলেন এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন।

সূত্র : রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড ও এনডিটিভি