মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দেয়ার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে এটি মার্কিন রক্ষণশীলদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য পূরণ করবে।
বুধবার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে এই আদেশ স্বাক্ষরিত হবে। ইতোমধ্যেই এই বিভাগের কর্মী সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয়েছে এবং তহবিল কমানোর চেষ্টা চলছে।
ট্রাম্পের শিক্ষা সচিব, ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্টের সাবেক সিইও লিন্ডা ম্যাকমাহন ৩ মার্চ শপথ গ্রহণের পরপরই একটি স্মারকলিপি জারি করেন, যেখানে বলা হয় সংস্থাটি তার ‘চূড়ান্ত মিশন’ শুরু করবে। পরের সপ্তাহে তিনি বিভাগের কর্মীসংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেন।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার জন্য প্রচারণা চালানোর সময় শিক্ষা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, তিনি বিভাগের ক্ষমতা রাজ্য সরকারগুলোর কাছে হস্তান্তর করবেন, যা বহু দশক ধরে অনেক রিপাবলিকানের ইচ্ছা ছিল।
ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা বিভাগে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা সীমিত। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য মাত্র ১৩ শতাংশ তহবিল ফেডারেল কোষাগার থেকে আসে, বাকি অর্থ রাজ্য ও স্থানীয় সম্প্রদায় অর্থায়ন করে।
কিন্তু নিম্ন আয়ের স্কুল ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল তহবিল অমূল্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর হাতে আসা একটি অনুলিপি অনুসারে, আদেশটি ম্যাকমাহনকে বিভাগটি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান গভর্নরও যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
এদিকে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাদ দেয়া হবে, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুদান এবং দেশজুড়ে নিম্ন আয়ের স্কুলগুলোর জন্য তহবিল প্রদান।
এই পদক্ষেপগুলো ইলন মাস্কের ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি পরিচালনা করছে। এর দ্রুত পদক্ষেপগুলো সম্ভবত নির্বাহী কর্তৃত্ব অতিক্রম করার জন্য আদালতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস