যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মঙ্গলবার নথির চূড়ান্ত দলিল প্রকাশ করেছে। এটি এমন একটি মামলা যা তার মৃত্যুর ৬০ বছরেরও বেশি সময় পরেও ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে উস্কে দেয়।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাগ্রহণের পর জানুয়ারিতে জেএফকে হত্যাকাণ্ডের সব অবশিষ্ট রেকর্ড প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ওই আদেশের পরই কেনেডি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র কেনেডিই নয়, কনেডির ভাই, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট এফ কেনেডি এবং নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যার সাথে সম্পর্কিত অবশিষ্ট নথিগুলো অসম্পাদিতভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় আর্কাইভস তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ’প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের নথি সংগ্রহের অংশ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধকরণের জন্য পূর্বে আটকে রাখা সমস্ত নথি বা দলিল প্রকাশ করা হয়েছে।’
১৯৬৩ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কেনেডির হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত লাখ লাখ পৃষ্ঠার রেকর্ড জাতীয় আর্কাইভস প্রকাশ করেছে।
তবে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের অনুরোধে হাজার হাজার নথি আটকে রাখা হয়েছিল।
৪৬ বছর বয়সী ক্যারিশম্যাটিক প্রেসিডেন্টেকে গুলি চালানোর তদন্তকারী ওয়ারেন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে একজন সাবেক মেরিন শার্পশুটার তার উপর গুলি চালায় এবং লি হার্ভে অসওয়াল্ড একাই এই কাজ করেছিলেন।
কিন্তু এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তটি টেক্সাসের ডালাসে কেনেডির হত্যার পিছনে আরো ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের জড়িত থাকার জল্পনাকে থামাতে খুব একটা সাহায্য করেনি এবং সরকারি নথিগুলোর ধীরগতিতে প্রকাশ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর টেক্সাসের ডালাসে নিহত হন জনএফ কেনেডি।
কেনেডি হত্যার দু’দিন পর, ১৯৬৩ সালের ২৪ নভেম্বর, একটি কাউন্টি কারাগারে স্থানান্তরিত হওয়ার সময়, ওসওয়াল্ডকে একজন স্ট্রিপ ক্লাবের মালিক জ্যাক রুবি গুলি করে হত্যা করে।
ইতোমধ্যে প্রকাশিত অনেক রেকর্ডই ছিল অপ্রচলিত গোয়েন্দা তথ্য। যার মধ্যে রয়েছে এফবিআই অ্যাজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া অসংখ্য তথ্য অনুসরণ করে এমন প্রতিবেদন যা কোনো ফলাফল দেয়নি।
এগুলোতে যা আছে তার বেশিভাগই আগে থেকেই জানা ছিল। যেমন সিআইএ কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য বেশ কয়েকটি অদ্ভুত ষড়যন্ত্র তৈরি করেছিল। সূত্র : বাসস