মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় একাধিক হাউছি নেতা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ।

রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেন, ‘এটি কোনো দায়সারা হামলা ছিল না। এটা ছিল অপ্রতিরোধ্য ও ব্যাপক একটি আঘাত। বেশ কয়েকজন হাউছি নেতা এতে নিহত হয়েছেন।’

ওয়াল্টজ বলেন, ইরান হাউছিদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণসহ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে আক্রমণে ইয়েমেনি গোষ্ঠীকে সহায়তা করার জন্য দায়ী।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজ রেডিওতে এক সাক্ষাৎকারে জানান, হাউছি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের ওপর হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ’বিশ্বের উপকার করছে’।

রুবিও বলেন, ‘আমরা ইয়েমেনে বোমা হামলা করছি, এটা ভাবা ভুল। আমরা হাউছিদের ওপর বোমা হামলা করছি এবং তারা ঘটনাক্রমে ইয়েমেনে অবস্থিত।’

তিনি আরো বলেন, লোহিত সাগরে হাউছিদের আক্রমণ বন্ধ করতে মার্কিন হামলাগুলো করা হয়েছে, যা মানুষের জিনিসপত্র কেনার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তবে তিনি এটা উল্লেখ করেননি, যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইয়েমেনে বোমা হামলা শুরু করার আগে জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকে হাউছিরা লোহিত সাগর আক্রমণ বন্ধ করে দিয়েছিল এবং হাউছিরা এ-ও বলেছিল, যদি ইসরাইল গাজা উপত্যকার ওপর থেকে তাদের চলমান সম্পূর্ণ অবরোধ প্রত্যাহার না করে তবে তারা আক্রমণ পুনরায় শুরু করবে।

সাক্ষাৎকারে জাতিসঙ্ঘের যাচাইকৃত প্রতিবেদনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়নি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে দুইজন শিশু ছিল।

হাউছি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত এবং ৯৮ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে, ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি যদি লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যায় তবে ‘তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।’ তার এই সতর্কবার্তা দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই ইয়েমেনে হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী।

সূত্র : আল জাজিরা ও আনাদোলু অ্যাজেন্সি