ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলের হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে পরামর্শ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট।
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লিভিট বলেন, ‘আজ রাতে গাজায় হামলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের সাথে ইসরাইলিরা পরামর্শ করেছে।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভোরে গাজাজুড়ে ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় কমপক্ষে ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে।
হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরাইল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করেছে।
লেভিট বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন স্পষ্ট করে বলেছেন - হামাস, হাউছি, ইরান, যারা কেবল ইসরাইলকেই নয় বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও আতঙ্কিত করতে চায়, তাদের সবাইকে এর মূল্য দিতে হবে। তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।’
ট্রাম্প এর আগে প্রকাশ্যে একই রকম শব্দ ব্যবহার করে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হামাসের উচিত গাজার সব পণবন্দীদের মুক্তি দেয়া নইলে তাদের ওপর ‘নরক নেমে আসবে।’
স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ১৫ মাস ধরে চলা ইসরাইলের সামরিক আক্রমণে ৪৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে যে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে, ইসরাইল তা অস্বীকার করেছে। এই আক্রমণ গাজার প্রায় ২৩ লাখ জনগণকে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং তীব্র ক্ষুধা সংকটের সৃষ্টি করেছে।
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার ও যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেয়ার পরিকল্পনার জন্যও ট্রাম্পের নিন্দা করা হয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠী, জাতিসঙ্ঘ, ফিলিস্তিন ও আরব রাষ্ট্রগুলো বলেছে, পুনর্গঠন পরিকল্পনা হিসেবে ট্রাম্পের প্রস্তাব জাতিগত নির্মূলের সমান।
এর আগে, শনিবার ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র পৃথকভাবে ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, হাউছি আন্দোলনের কয়েক ডজন সদস্য নিহত হয়েছে। তবে হাউছিরা জানিয়েছে, হামলায় কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করা যায়নি।
সূত্র : রয়টার্স