মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জাপানের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে বলেছেন, তিনি টোকিওকে একটি নতুন শুল্ক হারসহ একটি চিঠি পাঠাবেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য অংশীদার দেশের জন্য উচ্চ শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি টোকিওকে এই চিঠি পাঠাবেন।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন যে- চালের সঙ্কট থাকার পরেও জাপান মার্কিন চাল আমদানি করতে রাজি নয়।

ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি জাপানকে অনেক শ্রদ্ধা করি কিন্তু তারা আমাদের চাল নেয় না, অথচ তাদের দেশে মারাত্মক চাল সঙ্কট চলছে।’

অন্যথায়, আমরা তাদের কেবল একটি চিঠি পাঠাবো। আমরা চাই তারা আগামী বহু বছর ধরে আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে থাকুক।’

এর আগেই চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি অন্যান্য দেশগুলোকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার জানিয়ে চিঠি পাঠাবেন, যাতে তারা বুঝে চুক্তির অবস্থান কী।

মার্কিন চাল শিল্পের একটি বাণিজ্য সংস্থা তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, জাপান মার্কিন মিলড রাইসের (প্রক্রিয়াজাত চাল) ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি বাজার।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প বেশিভাগ বাণিজ্য অংশীদার দেশের জন্য ১০ শতাংশ হারে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে তিনি অস্থায়ীভাবে তা স্থগিত করেন যাতে আলোচনার সুযোগ থাকে।

এই শুল্ক বিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৯ জুলাই, যার ফলে যদি চুক্তি না হয় তবে ওই তারিখের পর থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

তবে এ পর্যন্ত মাত্র দুটি চুক্তির ঘোষণা এসেছে। একটি যুক্তরাজ্যের সাথে একটি সাধারণ কাঠামো। অন্যটি চীনের সাথে পাল্টা শুল্ক সাময়িকভাবে কমানো নিয়ে।

সোমবারের আগেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হাসেট সিএনবিসিকে বলেন, ডাবল ডিজিট সংখ্যার চুক্তি ও কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

তিনি আরো জানান, কর ছাড় ও ব্যয়ের কাটছাঁট বিষয়ক একটি বড় বিল পাস হওয়ার পরপরই ট্রাম্পের সাথে একটানা আলোচনা হবে এবং প্রতিটি দেশের জন্য শুল্ক হার নির্ধারণ করা হবে।

আইন প্রণেতারা ৪ জুলাইয়ের মধ্যে ট্রাম্পের ডেস্কে মেগা-বিলটি পৌঁছানোর আশা করছেন।

সূত্র : এএফপি