কিউবায় গুপ্তচরবৃত্তি ও অর্থনৈতিক অপরাধের অভিযোগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আলেজান্দ্রো গিলকে যাজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা চুক্তি বাস্তবায়নে ক্ষতিকর কার্যকলাপের জন্য আদালত তাকে যাজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা গিল কোন দেশের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন বা কী করেছেন আদালত সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
হাভানা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৬১ বছর বয়সী গিলকে দুর্নীতি, সরকারি নথি বা হেফাজতে থাকা সামগ্রী অপহরণ ও নষ্ট করা, সরকারি সিল ভঙ্গ ও গোপন নথি রক্ষার বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, তিনি তার কাজে সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করেছেন, যেসব গোপন তথ্যের দায়িত্বে ছিলেন সেসব নথি অপসারণ ও নষ্ট করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষের কাছে সরবরাহ করেছেন।
এছাড়া ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো ও কর ফাঁকির আলাদা একটি মামলায় তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই বিবৃতিতে আদালত জানিয়েছে, এসব ধারাবাহিক দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো ও কর জালিয়াতির অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
গত নভেম্বরের শুরুতে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গিলকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তারপর থেকেই তাকে জনসমক্ষে আর দেখা দেননি।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য তার হাতে ১০ দিন সময় রয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে কিউবার আইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপিলের সুযোগ থাকে এবং এজন্য দ্বিতীয় দফা বিচার প্রয়োজন হয়।
তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে কিউবা। বেসরকারি খাতের অগোছালো সম্প্রসারণ, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধির এই সময়ে হিলের মামলাটি সামনে আসে।
সূত্র : বাসস