মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আদালতে দাখিল করা মামলায় প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে, তারা সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ২৫ হাজার কর্মীকে বরখাস্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক তাদের বরখাস্তকে অবৈধ বলে রায় দেয়ার পর ফেডারেল সংস্থাগুলো তাদের সকলকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সোমবার রাতে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ১৮টি সংস্থার কর্মকর্তাদের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের সকলেই বলেছেন, পুনর্বহালকৃত প্রবেশনারি কর্মীদের অস্থায়ীভাবে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছিল।
অধিকাংশ সংস্থা জানিয়েছে, তারা কয়েকশ কর্মীকে বরখাস্ত করেছে। নথিপত্রের তথ্য অনুসারে, ট্রেজারি বিভাগ প্রায় সাত হাজার ৬০০ জন, কৃষি বিভাগ প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ জন এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ তিন হাজার ২০০ জনেরও বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেছে।
মার্কিন জেলা বিচারক জেমস ব্রেডার ১৩ মার্চ বলেন, গত মাসে শুরু হওয়া প্রবেশনারি কর্মীদের গণ-বরখাস্ত অবৈধ ছিল। পরে তিনি মামলা মুলতুবি রেখে কর্মীদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। এই রায়ে সংস্থাগুলোকে কর্মী ছাঁটাই থেকে বিরত রাখা না হলেও গণহারে ছাঁটাই করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালত বলেছে, সংস্থাগুলোর গণহারে ছাঁটাই পরিচালনার জন্য নিয়ম অনুসরণ করা উচিত ছিল।
মঙ্গলবার এক সংক্ষিপ্ত আদেশে ব্রেডার বলেন, মনে হচ্ছে সংস্থাগুলো তার রায়ের পর অর্থপূর্ণ অগ্রগতি করেছে। তিনি সংস্থাগুলোকে সোমবার বিকেলের মধ্যে কর্মীদের পুনর্বাসনের অগ্রগতি সম্পর্কে তাকে আপডেট করার নির্দেশ দিয়েছেন।
১৯টি ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন রাজ্য ও ওয়াশিংটনের একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রেডারের এই রায় এসেছে। মামলায় বলা হয়েছে, গণহারে কর্মী ছাঁটাই বেকারত্ব বৃদ্ধি করবে এবং রাজ্যগুলোতে সামাজিক পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধি করবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ব্রেডারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং সোমবার ভার্জিনিয়া-ভিত্তিক রিচমন্ড আপিল আদালতকে মামলার ফলাফল না আসা পর্যন্ত রায় স্থগিত করার জন্য অনুরোধ করেছে।
সূত্র : রয়টার্স