মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ শুক্রবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সাথে আস্থা তৈরি করে সশস্ত্র সংঘাত এড়াতে চাইছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ অ্যাঙ্কর টাকার কার্লসনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, ইসলামপন্থী সরকারকে লেখা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চিঠি হুমকি হিসেবে লেখা হয়নি।

গাজায় নতুন লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইলি হামলা ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীদের জাহাজ চলাচলের হুমকির পর সম্পর্ক ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুনভাবে তলানিতে পৌঁছেছে।

এর আগে ৭ মার্চ ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে চিঠি লিখে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে শুক্রবার টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত ইরানকে হুমকি দিয়ে তারা সফল হতে পারবে না। তাদের এবং অন্যদের জানা উচিত, তারা যদি ইরানি জাতির ক্ষতির জন্য এমন কিছু করে, তাহলে তাদের কঠোর জবাব দেয়া হবে।’

ট্রাম্পের প্রচারণার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে উইটকফ কার্লসনকে বলেন, ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা বেশি। এ কারণে ইরানকে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চাপ দেয়া আরো স্বাভাবিক হবে।

তবে কোনো সংঘাতে না গিয়ে ট্রাম্প সমঝোতা করতে চান। ট্রাম্প চিঠিতে বলেছিলেন, ‘আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমি শান্তি চাই। সামরিকভাবে এটি করার কোনো কারণ নেই। আমাদের কথা বলা উচিত।’

ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে উইটকফ বলেন, ‘আমাদের একটি যাচাইকরণ কর্মসূচি তৈরি করা উচিত যাতে কেউ ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে চিন্তিত না হয়। কারণ, এই বিকল্পটি খুব ভালো বিকল্প নয়।’

তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে সবকিছু পরিষ্কার করার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। যাতে তারা আবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব তৈরি করে একটি মহান জাতি হয়ে উঠতে পারে। এসব কারণেই ট্রাম্প ইরানের সাথে আস্থা তৈরি করতে চান।

উইটকফ আরো বলেন, ইরানের সাথে মার্কিন আলোচনা ’ব্যাক চ্যানেল বা অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একাধিক দেশ ও একাধিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে’ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : এএফপি/বাসস