মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানকে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৯ মার্চ) মার্কিন সংবাদসংস্থা অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তা ও চিঠির বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
কয়েকদিন আগে আবুধাবিতে এক বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের কাছে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ চিঠিটি পৌঁছে দেন। তার একদিন পর আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের দূত আনোয়ার গারগাশ তেহরানে যান এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে চিঠিটি দেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, খামেনির কাছে ট্রাম্পের চিঠিটি কড়া ভাষায় লেখা হয়েছে। চিঠিতে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইরান যদি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যায় তবে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র দুটি আরো জানিয়েছে, ট্রাম্প চিঠিতে বলেছেন, তিনি উন্মুক্ত আলোচনা চান না এবং চুক্তির জন্য দুই মাসের সময়সীমা উল্লেখ করেছেন। তবে দুই মাসের সময়কাল চিঠিটি পৌঁছানোর পর থেকে শুরু হবে নাকি আলোচনা শুরু হওয়ার পর হবে তা স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প এই চিঠিটি চলতি মাসের শুরুর দিকেই লিখেছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইরানি নেতার কাছে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে পারি না। খুব শিগগির কিছু একটা ঘটতে চলেছে। আমি অন্য বিকল্পের চেয়ে শান্তি চুক্তি করতে চাই। তবে অন্য বিকল্পটি সমস্যার সমাধান করবে।’
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের কাছে চিঠিটি পৌঁছে দেয়ার আগে হোয়াইট হাউস ইসরাইল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন মিত্রকে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করেছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সপ্তাহের শুরুতে সাংবাদিকদের সাথে এক ব্রিফিংয়ে বলেছে, ট্রাম্পের চিঠিটি যাচাই শেষে ইরান তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে।
সূত্র : অ্যাক্সিওস