বছরের পর বছর পার হলেও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন এফডিসির কর্মীরা। চাকরিতে হাজিরা দিলেও মাসের পার মাস পাননি বেতন। কয়েক মাস পর কখনো অর্ধেক বেতনে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। এর মধ্যে কেউ কেউ অবসরে গেছেন দেনা-পাওনা ছাড়াই।

বিদায় নেয়া অনেকেই হারিয়েছেন চলার সক্ষমতা। অসুস্থ হয়েও বিছানায় কাতরাচ্ছেন কেউ কেউ। দেখার যেন কেউ ছিল না। নিজের ন্যায্য পাওনার জন্যও এমন বছরের পর বছর এফডিসি এমডির দরজায় ধরনা দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু কোনো সুরাহা না পেয়ে এক সময় হতাশ হয়ে দেনা-পাওনার হাল ছেড়ে দেন কর্মীরা।

কিন্তু নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুমা রহমান তানি এসে হাল ধরেন আবার। হঠাৎ যেন পাল্টে যায় তাদের জীবন। দীর্ঘ দিনের আশা ও প্রত্যাশা বাস্তব হতে দেখে তারা আনন্দে হয়ে উঠেন আত্মহারা। জীবনের শেষ সম্বল ও সঞ্চয় গ্রহণ করতে তানির ডাকে হাজির হন এফডিসিতে।

সোমবার (২১ এপ্রিল) এফডির অবসর নেয়া কর্মীদের পাওনা চেক হস্তান্তরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় নতুন এমডি মাসুমা তানির ডাকে সেখানে জড়ো হন অবসরপ্রাপ্তরা। নিজেদের প্রত্যাশিত নতুন চেক তাতে পেয়ে আবেগে কান্নায় আপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বলেন, ‘এমন মানুষ সব সময় যেন এফডিসির কর্মীদের পাশে থাকে এই প্রত্যাশা করেন।

তারা আরো বলেন, বছরের পর বছর নিজেদের পাওনার জন্য এফডিসির দরজায় ঘুরেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা পাইনি। এতো দিন পর তা পাবো এমনটা প্রত্যাশাও করতে পারিনি। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চেষ্টায় তা সম্ভব হয়েছে। ফলে শেষ জীবনে হলেও নিজের পাওনা পেয়ে তারা আনন্দিত।

এফডিসিতে কর্মরতরা জানান, বর্তমান এমডি আসার পর তাদের বেতনও নিয়মিত হয়েছে। এতদিন ধরে না পাওয়া বেতন বোনাসও পরিশোধ করা হচ্ছে। ফলে এখন নতুন করে এফডিসিতে প্রাণ ফিরেছে।

এ বিষয়ে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি জানান, ‘তিনি আসার মাত্র কয়েক মাস হয়েছে। এখানে আসার পর তার প্রথম উদ্দেশ্য ছিল কর্মীদের বেতন-বোনাস নিয়মিত করার সাথে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা। কয়েক মাসের চেষ্টায় তিনি তা করতে পেরেছেন।’

এছাড়া যারা অবসরে গেছেন তারাও বছরের পর বছর ধরনা দিয়েও নিজের পাওনা পাননি। তাই সে পাওনা পরিশোধে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় কয়েকজনকে পাওনার চেক দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘কর্মীদের না বাঁচাতে পারলে প্রতিষ্ঠানও বাঁচে না। তাই এখন প্রধান কাজ প্রতিষ্ঠান ও তার কর্মীদের রক্ষা করা। এর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন হলে এফডিসি এক সময় ঘুরে দাঁড়াবে।’