বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ কর হ্রাসের সরকারি সিদ্ধান্তকে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
একইসাথে তিনি বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় গবেষণা ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
সোমবার ইউজিসি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এর আগে, রোববার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।
ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে ৫ শতাংশ কর হ্রাস শুধু একটি আর্থিক সুবিধাই নয়, বরং এটি উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের একটি বড় সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দক্ষতা উন্নয়ন, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং মানসম্মত গবেষণায় ব্যয় করবে বলে আমরা আশা করি।’
দেশের বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো মূলত পাঠদাননির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণায়ও নেতৃত্ব দিতে হবে। জাতীয় সমস্যার সমাধান এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি সহায়তা পায় না—এমন ধারণা সঠিক নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, গত অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যেসব গবেষণা প্রকল্প দেশের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, ইউজিসি সেসব প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়ন করছে। তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ইউজিসি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো বৈষম্য বা পার্থক্য করে না। জাতীয় উন্নয়নে উভয় ধারার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি এবং সমন্বিত গবেষণা ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এর ফলে এমন একটি গবেষণা ইকো-সিস্টেম গড়ে উঠবে, যেখানে গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ বাড়বে এবং দেশীয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা অর্জনের জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে।
বর্তমান সরকার উচ্চশিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়েছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং উদ্যোক্তা তৈরির মতো বিষয়গুলো এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ।
উচ্চশিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরো জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউজিসির মাধ্যমে গবেষণার জন্য ২৩৮ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট ৮৫২ কোটি টাকা গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এপিইউবি’র সভাপতি মো: সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন, ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি, ভিসি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সূত্র : বাসস