কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) মহাপরিচালক (ডিজি) ছাইফুল আলমসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে আওয়ামী দোসর অভিহিত করে তাদের অপসারণের দাবিতে রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন সরকারি কর্মকর্তার। আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের সাথে সংহতি জানিয়ে ফেস্টুন হাতে কিছু মানুষকে খামারবাড়ির গেটের বাইরে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে খামারবাড়ি চত্বরের রাস্তা বন্ধ করে দেয় ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে একদল মানুষ। এই কর্মসূচিকে ঘিরে থমথমে অবস্থা দেখা দেয় পুরো খমারবাড়ি এলাকায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভেতরে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়। অবস্থান কর্মসূচির আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা গেছে। টহল দিতে দেখা যায় একদল সেনা সদস্যকেও।

এদিন বেলা ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব মো: রেজাউল ইসলাম (মুকুল) নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। সোয়া ১২টার দিকে টহলরত সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান কর্মসূচি ভণ্ডুল করে দেয়। এ সময় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের সরে যেতে দেখা যায়। তবে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ততক্ষণে খামারবাড়ি মোড়ে অবস্থান নিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়।

ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের অর্থ সম্পাদক কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিম। এসময় শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কিছু নেতাকর্মীকেও দেখা যায়।

কর্মকর্তাদের কয়েকজন জানান, ডিএইর উপপরিচলক প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রশীদের বদলি ঘিরে খামারবাড়িতে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মাহবুবুর রশীদকে মেহেরপুরের বারাদি হর্টিকালচার সেন্টারে উপপরিচালক পদে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করে কৃষি মন্ত্রণালয়। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংয়ের উপপরিচালক (আমদানি) মো: মুরাদুল হাসানকে। এটাকে ঘিরেই উত্তেজনা দেখা দেয় খামারবাড়িতে।

এদিকে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানার ব্যবহার করে এই অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও সংগঠনের আহ্বায়ক ড. মো: সাহিনুল ইসলাম বলছেন, এই কর্মসূচি পালনে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এমনকি গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টিও তাদের বৈঠকে অনুমোদন হয়নি।

রোববার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের প্যাডে সংগঠনের আহ্বায়ক ড. মো: সাহিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নিরলস কাজ করছে। জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী পর্যায় ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশের কৃষি উৎপাদনের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে। বিসিএস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বাস করে ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সহায়তা করা একইসাথে কৃষি সেক্টরে ফ্যাসিস্টদের দোসরমুক্ত করা। এহেন পরিস্থিতিতে বিসিএস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে কতিপয় কর্মকর্তা গত ১৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে কৃষি সেক্টরকে ফ্যাসিস্টের দোসর মুক্ত করে কৃষি উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখা শীর্ষক একটি সাংবাদিক সম্মেলন ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্টিত হয়। উল্লিখিত সাংবাদিক সম্মেলনটি বিসিএস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আলোকে করা হয়নি। সাংবাদিক সম্মেলনটি একতরফাভাবে করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিসিএস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানার অপব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাধারণ কৃষিবিদের মধ্যে শুধু বিভক্তিই সৃষ্টি করবে না, বরং কৃষি উপদেষ্টা মহোদয়ের নিকট ভুল বার্তা প্রেরণ করবে। এটি সচেতন কৃষিবিদদের কাম্য হতে পারে না। পূর্ণাঙ্গ ফোরামে আলোচনা ব্যতিত এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সংবাদ সম্মেলনে বিসিএস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের বেশিভাগ সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ ছিল না এবং আমরা উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনের সাথে একমত না। এমতাবস্থায়, ভবিষ্যৎ এ ধরনের অনৈতিক ও অ্যাসোসিয়েশনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হলো।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর মহাপরিচালক ছাইফুল আলম বলেন, সরকারের নির্দেশনায় আমরা চলি। খামারবাড়িতে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কর্মসূচি ভণ্ডুল হয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর রাস্তা থেকেও সরে যায় আন্দালনকারীরা। দুপুর পৌনে ২টার দিকে খামারবাড়ি এলাকার রাস্তা স্বাভাবিক হয়।