বিসিএস পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের একটি আবাসন প্রকল্প অ্যাডভান্স পুলিশ টাউনে নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্বাচন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার ওই আবাসন প্রকল্পের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনে সমবায় অধিদফতরের একজন প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও তাদের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।
এছাড়াও এজিএমে নির্ধারিত কোনো অ্যাজেন্ডা না থাকলেও উপস্থিত সদস্যদের নিয়ে তড়িঘড়ি করে রাতে নির্বাচন আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (অব.) মো: সাইয়্যেদুল ইসলাম ও মিসেস মরজিনা ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিসিএস পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, অ্যাডভান্সড পুলিশ টাউনের বার্ষিক সাধারণ সভা গত ২৩ মে ঢাকার রমনার পুলিশ কনভেনশন হলে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা রাত ৯টায় শুরু হয়। অনুষ্ঠান রাত সোয়া ১০টায় শেষ হয়। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে নির্বাচনের কোনো বিষয় উল্লেখ না থাকলেও নৈশভোজ শুরুর আগে হঠাৎ সমিতির নির্বাচন হওয়ার ঘোষণা করা হয়। ওই নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি বা আগে কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। যা নিয়মবহির্ভূত। এছাড়া কোনো কোনো পরিচালক সভাপতি পদে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এখানে কর্মরত রয়েছেন। তাদের বিভিন্নভাবে সমিতির কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে শোনা যায়। এ জন্য তারা বিভিন্নভাবে ছল-ছাতুরি করে বারবার নির্বাচিত হন। কিন্তু কোনো ব্যাপারেই সমবায় সমিতির আইন মোতাবেক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
অভিযোগে আরো বলা হয়, তড়িঘড়ি করে নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের তালিকা চাওয়া হয়। দু’টি প্যানেলও দাখিল করা হয়। ইতোমধ্যে রাত অধিক হওয়ায় বয়স্ক ও বার্ধক্যজনিত কারণে অনেক সদস্য নৈশভোজে অংশগ্রহণ না করে বিলম্বের জন্য সভাস্থল ত্যাগ করেন। তখন তাড়াহুড়া করে ইলেকশন কমিশন ঘোষণা করা হয় এবং দু’জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিয়োগ ঘোষিত হয়। অথচ সমবায় সমিতির বিধি মোতাবেক, নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে একটি প্যানেলকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। যা সমবায় সমিতির আইন বহির্ভূত।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (অব.) মো: সাইয়্যেদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বিসিএস পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের গত শুক্রবার রাত ১০টার পরে দিনের ইলেকশন রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচনের মতোই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা সমবায় সমিতির আইনের প্রত্যয় ও সমবায়ের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় এ নির্বাচন অবৈধ ঘোষণাযোগ্য।’
এসময় তিনি বিষয়টি অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ ও পুনঃনির্বাচনের ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানান।