মুক্তিযদ্ধে শহীদ তিন বোনের স্মৃতি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ত্রিবেণী’ নামক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৬ মার্চ) থেকে এ প্রদর্শনী শুরু হয়।

মুক্তিযুদ্ধে একই পরিবারের তিন বোন একইসাথে হানাদার বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। সেদিনটি ছিল ১৯৭১ সালে ৩ এপ্রিল। চট্টগ্রামের পুলিশ লাইনের পাশে দামপাড়ার বাসায় ফাতেমা, নাজমা ও আসমা গুলিবিদ্ধ হন। এদের দু’জন স্পটেই দুপুরের আগে মারা গেছেন, অন্য এক বোন বিকেলে মারা যান। এই তিন বোনকেই একই কবরে দাফন করা হয়। একই পরিবারের এই তিন বোনের সাথে আরো দু’ বোনের গায়ে বোমার স্প্রিন্টার লাগে। তাদের একজন স্প্রিন্টার নিয়ে অনেক দিন বেঁচে ছিলেন এবং ওই স্প্রিন্টারের জটিলতায় পরে মৃত্যৃবরণ করেন। তাদের আরেক বোন স্প্রিন্টারের দাগ নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন। ওই পরিবারের পাঁচ বোনের সাথে সেদিন তাদের বাবা রেলওয়ের কর্মকর্তাও গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই পাঁচবোন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: মোজাহেরুল হকের ছোট বোন। তার বোনদের স্মৃতি নিয়েই শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘ত্রিবেণী’। প্রদর্শনীটি বুধবার দুপুরে উদ্বোধন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

ফাতেমা, নাজমা ও আসমার স্টুডিওতে তোলা কিছু ছবির ওপর ভিত্তি করে হাতে আরো কিছু আঁকা ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। কিছুটা কল্পণার আশ্রয় নিয়ে তিন বোনের ছোটবেলার জীবনকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তিন বোন এক সাথে বসে লম্বা বেণী এক পাশে দুলিয়ে রেখে স্টুডিওতে যে ছবি তোলেন তা থেকেই প্রদর্শণীর নাম দেয়া হয়েছে ত্রিবেণী। সেই ছবিটাই বিভিন্নভাবে হাতে আাঁকা হয়েছে। প্রদর্শনীতে তিন বোনের ব্যবহৃত কামিজ, শাড়িও প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, ‘আমার পুরো পরিবার একাত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি বোন একই দিন শহীদ হয়েছে কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাইনি।’