কাজ নেই, নেই গবেষণা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও আসেন না তিনি। তারপরেও প্রফেসর ইমেরিটাসের পদবির কারণে নিচ্ছেন নানা সুযোগ-সুবিধা। এদিকে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দ রয়েছে সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আধুনিক একটি কক্ষও। তিনি অধ্যাপক ড. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন সিন্ডিকেট তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন বিএসএমএমইউ) ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে তৎকালীন সিন্ডিকেটের ৯২তম সভায় অধ্যাপক হিসেবে তিনি যে সুযোগ-সুবিধা পেতেন একই সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা তার নিয়োগ বিধিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য তিনি পাঠাগার ও গবেষণা ব্যবহারের সুবিধা ও সেক্রেটারিয়াল সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলে নিয়োগের শর্তে উল্লেখ করা হয়। একইসাথে তার গবেষণা পরিচালনা জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী অনুদানও পাবেন। ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে তিনি একজন পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমান হারে পাবেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তাকে সব ধরনের সুবিধা আজীবন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সিন্ডিকেটে।

তবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। ওই অধ্যাপক বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন না এবং কোনো গবেষণাও করছেন না বলে জানান তারা।

ফলে কেন তাকে এসব সুবিধা দেয়া হবে বলে প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ ছিলেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এ অধ্যাপক শেখ হাসিনার সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সমর্থক ছিলেন। শেখ হাসিনার অবৈধ কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কখনো প্রতিবাদ করেননি বরং স্বৈরাচারের সময় ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে সচিবের সমমর্যাদা ভোগ করেছেন।

তারা আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা আহত ও দেড় হাজার নিহত হলেও তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব হতাহতের ঘটনায় তিনি ছিলেন সরব সমর্থক। জুলাইয়ের রক্তাক্ত বিপ্লবের পর এমন ব্যক্তিকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আসন্ন সিন্ডিকেটে ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে তার নিয়োগ বাতিল না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তারা।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহকে মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও

তিনি রিসিভ করেননি।