স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে ভালো কাজ হয় না। ফ্যাসিবাদী আমলের গত ১৬ বছরে সবকিছু উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, ফলে টেকসই কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি, প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) গুলশানে সিক্সথ সিজনস হোটেলে ‘রাজনৈতিক চর্চায় পরিকল্পিত নগরায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুসলেহ উদ্দিন হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বক্তব্য রাখেন।
বিএনপির নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘ঢাকার যানজট কমাতে আমরা বৈদ্যুতিক গাড়িসহ অন্যান্য পরিবেশ বান্ধব যানবাহন নামাতে চাই। ঢাকার সাথে নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জকে সংযোগ তৈরি করতে চাই, যেন মানুষ ঢাকায় কাজ শেষ করে ওইসব অঞ্চলে ফিরে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে চাই না, দেশেই প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ আছে, তাদের কাজে লাগাতে চাই। বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে চাই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, প্রতিটি শিক্ষকের হাতে একটি করে ট্যাবলেট কমপিউটার তুলে দিতে চাই। শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর নির্বাচনে যেতে হলে জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।’
জামায়াতের নগর পরিকল্পনা সম্বন্ধে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা যোগ্য ও সৎ লোকটাকে ঠিক জায়গা বসাতে চাই, যেন তিনি দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দল দেখতে চাই না। তিনি তুরস্কের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে দক্ষ ও যোগ্য লোককে সঠিক জায়গায় বসানোর কারণে তুরস্ক দিন দিন উন্নতি করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘নগর পরিকল্পনা হোক আর যাই হোক, দলান্ধ লোকজন দিয়ে কাজ করালে তারা দলের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কিছু করার চিন্তাও করতে পারেন না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছে, তারা দেশে বৈষম্যের অবসান চেয়েছে। সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও জবাবদিহির প্রশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। দলীয় সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করতে না পারলে দেশের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।’
ইসলামী আন্দোলনের নগর পরিকল্পনা সম্বন্ধে প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলে বাংলাদেশকে আগামী ১০ বছরের মধ্যে সাহায্য গ্রহীতা থেকে দাতা দেশে পরিণত করতে চাই।’
তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘ভোট দেয়ার আগে চিন্তা করতে হবে কাকে ভোট দিলে রাষ্ট্র কেবল যন্ত্র হবে না, জনগণের কল্যাণ বুঝবে।’
সঞ্চালক অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে। শুধু ঢাকাভিত্তিক নয়, পরিকল্পনা করতে হবে পুরো দেশের। আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম তারা কেউ ঢাকার ছিলেন না, তারা বৈষম্যহীন দেশ দেখতে চেয়েছিলেন।’