বাংলাদেশী এক শ্রমিক মো: ওবায়দুলকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে মালয়েশিয়ায় এক নিয়োগকর্তার ফাঁসির আদেশ দিয়েছে দেশটির আদালত।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আমির আমজার মোহাম্মদ আসপারের বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেন বিচারক সু তিয়াং জু।
সাত বছর আগে মালয়েশিয়ার সুঙ্গাই কিন্তায় এক পা মোটরসাইকেলের সাথে বাঁধা অবস্থায় ওবায়দুলের লাশ উদ্ধার করেছিল স্থানীয় পুলিশ।
২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাত ৮টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ২৫ মিনিটের মধ্যে আমির আমজা মালয়েশিয়ার সেন্ট্রাল পেরাক জেলার কাম্পুং গাজাহর সুঙ্গাই গালাহ এলাকার সুঙ্গাই কিন্তায় ওবায়দুলকে হত্যা করেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রায়ে বিচারক তিয়াং জু বলেছেন, খুনী অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাকে তিলে তিলে হত্যা করেছে। ভিকটিমের মৃত্যু হঠাৎ ঘটেনি, অভিযুক্ত আমির আমজা প্রমাণ নষ্ট করার জন্য তাকে নদীর তীরে নিয়ে তার গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করেন।
এর আগে, ভুক্তভোগীর ভাই মো: হোসেন খান আদালতে এক জবানবন্দিতে বলেছিলেন, মো: ওবায়দুল ছয় ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় এবং তা মা-বাবা এখনো বেঁচে আছেন। তারা এখনো শোকে পাথর। ওবায়দুল চার বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোম্পানিতে কাজ করেন। আর এক বছর পর ওবায়দুল দেশে গিয়ে বিয়ে করার কথা জানিয়েছিলেন এবং সে অনুযায়ী বিয়ের প্রস্ততিও নিচ্ছিল পরিবার। ওবায়দুলের আয়ের উপর মা-বাবাসহ পুরো পরিবার নির্ভর ছিল।
মো: হোসেন আরো বলেন, নিয়োগকর্তা তাকে রক্ষা করার কথা, সে কি না নির্মমভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছে এর শোক পরিবার এখনো ভুলতে পারছে না।
মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর গীতা জোরা সিং এবং অভিযুক্তের প্রতিনিধিত্ব করেন আইনজীবী ভি সান্থিরান।
২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি শুরু হওয়া বিচার চলাকালীন মোট ২৪ জন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এবং একজন আসামিপক্ষের সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন এ মামলায়।