ভ্রুণহত্যার দায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়া সাবেক সহকারী প্রক্টর ও পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের ব্যাংক টাউনের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হিসেবে মাহমুদুর রহমান জনিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মাহমুদুর রহমান জনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জাবি শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে প্রশাসন।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর জনি ও একই বিভাগের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক আনিকা বুশরা বৈচির একটি অন্তরঙ্গ ছবি (সেলফি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করা হয়। পোস্টারে লেখা ছিল, ‘এভাবেই ললিপপের ভেল্কিতে শিক্ষিকা হলেন আনিকা বুশরা বৈচি।’ একইসাথে বিভাগের শিক্ষক পদে আবেদনকারী ৪৩তম ব্যাচের এক ছাত্রীর সাথে জনির আপত্তিকর কথোপকথনের অডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তাকে গর্ভপাত করানোর কথা বলতে শোনা যায়।

এছাড়াও ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রীর সাথে জনির অনৈতিক সম্পর্ক ও অশালীন চ্যাটিংয়ের ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে এলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর একাধিক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গঠিত হয় স্ট্রাকচার্ড কমিটি।

পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. মো: নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় মাহমুদুর রহমান জনিকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।