ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরাইলের বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে জবি শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হয়ে এ মিছিল বাহাদুর শাহ পার্ক ঘুরে রফিক ভবনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় তারা ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘বদরের হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘উহুদের হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’, ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন, ফ্রি ফ্রি গাজা’ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

সমাবেশে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমরা দেখছি, সারা বিশ্বে মুসলিমরা নির্যাতিত। ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলমানদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। এখন গাজার যে অবস্থা এ সময় জিহাদ ছাড়া উপায় নাই।’

বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, ‘আমাদের এখন বক্তব্য দেয়ার সময় নয়। আমরা অনেক সমবেদনা, একাত্মতা দেখেছি। আমাদের এখন এ্যাকশনে চলে যেতে হবে। আমরা মুসলিমদের একত্রিত হতে হবে। আমেরিকার অ্যাম্বাসি ঘেরাও করে লাভ নেই। আমাদের মুসলিম দেশগুলোকে জাগাতে হবে। ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, মিশরকে জাগাতে হবে।’

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘মুসলিম বিশ্ব আজ নিজেদের মাঝে বিভেদ নিয়ে ব্যস্ত আছে। আমাদের ভাইয়েরা বোনেরা আজ মারা যাচ্ছে কিন্তু আমাদের মুসলমানরা বদর আর উহুদের শিক্ষাকে ভুলে যাওয়ার কারণে কিছুই করতে পারছে না। বাংলাদেশসহ সব মুসলিম দেশকে শক্তিশালী হতে হবে। আমাদেরকে আত্মনির্ভর হতে হবে। এমন অবস্থানে যেতে হবে যাতে আমরা আর কোনো দেশের ওপর নির্ভর করতে না হয়- চাই সেটা অস্ত্র হোক বা কোনো পণ্য।’

জবি শিক্ষক সমিতির সাদারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সংহতি সমাবেশ করেছি। আমাদের সরকারের প্রতি আহ্বান, বাংলাদেশ থেকে ইসরাইলি গণহত্যার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করতে হবে। আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হবে ইসাইলি সকল পণ্য বর্জন করবো। আমেরিকা আমাদের বন্ধু নয়। ইসরাইলি গণহত্যায় মদদদাতাদের অন্যতম এই আমেরিকা।’