ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা, গবেষণায় উৎকর্ষ সাধন এবং গবেষকদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে আগামী ২ মে (শুক্রবার) প্রথমবারের মত একটি বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ এক্সিলেন্স রিকগনিশন' শীর্ষক এই অনুষ্ঠান নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হবে।

আয়োজকরা জানান, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসকল গবেষকের গবেষণা প্রবন্ধ 'হাই-ইমপ্যাক্ট- জার্নাল' - এ প্রকাশিত হয়েছে, তাঁদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ গবেষকগণও গবেষণা কাজে আরো উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নীতি নির্ধারকদের সাথে গবেষকদের সংযোগ স্থাপন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তারা।

অনুষ্ঠানে দু'টি পৃথক অধিবেশন থাকবে। প্রথম অধিবেশনের বিষয় হলো 'উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগের গুরুত্ব'। এই অধিবেশনে উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। এছাড়া, উচ্চশিক্ষার ভূমিকা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করবেন ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যালামনাই প্রতিনিধিগণ। প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। এতে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

দ্বিতীয় অধিবেশনটি ' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ এক্সিলেন্স রিকগনিশন ২০২৫' শীর্ষক মূল সম্মাননা পর্ব। এই অধিবেশনে গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রায় ৩শ' জন খ্যাতিমান শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা প্রদান করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান-এর সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্কৃতিকে আরো গতিশীল করতে এবং গবেষকদের তাদের অবদানের জন্য প্রকাশ্যে স্বীকৃতি জানাতে এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ধরনের অনুষ্ঠান বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিং-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।