দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর আলোকেই এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে, যা দেশের বিগত বছরগুলোর সাক্ষরতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রকাশ করে।’
আগামীকাল ৮ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশের বেশি পৌঁছানো নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি। তবে, এখনো একটি বড় অংশ শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার সুযোগ থেকে বাইরে রয়ে গেছে। বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর প্রাপ্তবয়স্কদের দ্রুত সাক্ষর ও দক্ষ করে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় সাক্ষরতা কেবল নাম দস্তখত বা বর্ণমালা চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ইউনেস্কো নির্ধারিত এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য— ‘লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপারিটি’-কে সামনে রেখে সাক্ষরতাকে কর্মসংস্থান, জীবনদক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও পরিবেশ সচেতনতার সাথে যুক্ত করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে বর্তমানে ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের (বিএনকিউএফ) মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সরাসরি স্থায়ী চাকরি, শোভন কাজে শিক্ষানবীশ বা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বী করতে এবং দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আলোকে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা) গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বৈশ্বিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
চতুর্থ শ্রেণিতে চালু হতে যাওয়া নতুন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্পোর্টস ও কালচারাল এডুকেশনের একটি প্রাথমিক পাঠ্যবই চতুর্থ শ্রেণিতে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০২৮ সালে এই ব্যাচ পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম কার্যকর হবে। আপাতত সহকারী শিক্ষকদের থিওরেটিক্যাল প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক্সপার্টদের পিটিআই/পিটিসির মাধ্যমে যুক্ত করা হবে।
প্রধান শিক্ষকদের রায় ও নিয়োগ বিষয়ে তিনি জানান, প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য বা আইনি প্রক্রিয়ায় ছিল। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে— যাতে দ্রুততম সময়ে এসব পদে শিক্ষক নিয়োগ-পদায়ন নিশ্চিত করা যায়।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সাক্ষর, প্রযুক্তি-সচেতন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম বাংলাদেশ নির্মাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত (অতিরিক্ত দায়িত্ব), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস