২০১৬ সালে লিস্ফোমা টিউমার থেকে ক্যান্সার ধরা পড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক শিক্ষার্থী মো: তোজাম্মেল হোসেন মিলনের। চিকিৎসায় সুস্থ হলেও ডাক্তারের পরামর্শ ছিল নিয়মিত ঘাম ঝরানোর। সেই থেকে ঘাম ঝরাতে সাইক্লিংকে বেছে নেন মিলন। আর নতুন এ যাত্রায় সম্প্রতি গড়েছেন বিরল এক রেকর্ড। বিশ্বের দ্বিতীয় ও বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সাইকেল নিয়ে একসাথে হিমালয়ের অন্নপূর্ণা রেঞ্জের চারটি পয়েন্টে আরোহণ করেন তিনি।
শনিবার (১২ এপ্রিল) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ রেকর্ডের কথা জানান তিনি।
সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বছরের ১৭ মার্চ ২৫ দিনের অভিযান শুরু করেন তিনি। এরপর সাইক্লিং করে হিমালয়ের অন্নপূর্ণা রেঞ্জের তিলিকো লেক, থরংলা পাস, অন্নপূর্ণা সার্কিট ও অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে পৌঁছান। যা বিশ্বের দ্বিতীয় ও প্রথম বাংলাদেশী ব্যক্তি হিসেবে এ চারটি চূড়ান্ত গন্তব্য সাইকেলে সম্পন্ন করার অনন্য রেকর্ড এনে দিয়েছে তাকে।
নিজের এ অনন্য অর্জন মেয়ে মানহার নামে উৎসর্গ করেছেন মিলন।
এ বিষয়ে তিনি জানান, ‘এটি শুধু আমার জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও এক নতুন ইতিহাস। এ অসাধারণ অর্জন আমি আমার প্রিয় মেয়ে মানহাকে উৎসর্গ করছি। সে হয়তো এখন বুঝবে না কিন্তু বড় হয়ে জানবে। তখন হয়তো বাবার এ স্বপ্ন, সংগ্রাম ও অর্জন তার অনুপ্রেরণার উৎস হবে।’
তিনি আরো জানান, এ অভিযানের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল চ্যালেঞ্জিং। অনেক সঙ্কট অতিক্রম করতে হয়েছে। তবে সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
সাইক্লিং নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে মিলন বলেন, ‘বিশ্বের আলোচিত হাইওয়ে, গিরিপথ, মালভূমি অতিক্রম করার ইচ্ছে অনেক। পাশাপাশি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও দুঃসাহসিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে চাই। এ সকল অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখার ইচ্ছাও আছে।’
এর আগে, ২০১৮ সালে খারদুংলা পাস অভিযান করে প্রথম রেকর্ড গড়েছিলেন মিলন। সে সময় টেকনাফ থেকে লাদাখের ৭০ দিনের ট্রিপে মিলন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮ হাজার ৩৮০ ফুট উচ্চতায় উঠেছেন শুধু প্যাডেলে চেপে। সেই কীর্তির প্রায় সাত বছর পর আবারো প্রিয় সেই বাহন নিয়ে আরো এক বিশ্বরেকর্ডে নিজের নাম লেখালেন অকুতোভয় মিলন।