বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ অঞ্চলে অবৈধ অর্থ প্রবাহ প্রতিরোধে একটি আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। একইসাথে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল ভারতের শিলংয়ে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক (এএমএল/সিএফটি) উপ-গ্রুপের ১৪তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ এ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে বিমসটেকের সাতটি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।

সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য একটি বিমসটেক এএমএল/সিএফটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটগুলোর (এফআইইউ) মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে বিমসটেক এএমএল/সিএফটি কন্টাক্ট পয়েন্ট নেটওয়ার্ক কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়ন এবং আর্থিক অপরাধের অন্যান্য নিত্যনতুন রূপ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

উদীয়মান আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবেলায় আরো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার, বিশ্লেষণী সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো ঘনিষ্ঠ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেয়া হয়।

বিমসটেক সচিবালয় জানায়, বৈঠকে উপ-গ্রুপের ১৩তম বৈঠকের পর থেকে হওয়া অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সাথে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে (এএমএল/সিএফটি) জাতীয় পর্যায়ের অগ্রগতি, উদীয়মান ঝুঁকি, পরিবর্তিত প্রবণতা এবং উত্তম চর্চা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

আর্থিক অপরাধের ক্রমবর্ধমান আন্তঃসীমান্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতীয় ও আঞ্চলিক এএমএল/সিএফটি কাঠামো আরো শক্তিশালী করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সময়োপযোগী তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।

বৈঠকে অর্থ পাচারবিষয়ক এশিয়া/প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপে (এপিজি) বিমসটেকের পর্যবেক্ষক মর্যাদা কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান বিনিময় আরো সম্প্রসারণের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পারস্পরিক মূল্যায়নের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রস্তুতি আরো জোরদার করা।

ভার্চুয়াল সম্পদ, ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার, অনলাইন জালিয়াতি এবং সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য আর্থিক অপরাধসংক্রান্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিস্তারিত আলোচনা করে।

প্রতিনিধিদলগুলো বৈঠকের আয়োজন এবং অংশগ্রহণকারীদের আতিথেয়তা দেয়ার জন্য ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

এছাড়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ধারাবাহিক সমন্বয় ও সহায়তা দেয়ার জন্য তারা বিমসটেক সচিবালয়কেও ধন্যবাদ জানায়।

বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ (বিমসটেক) সাতটি দেশ- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত। বাসস