ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় বিদেশী প্রসাধনী। বৈধ কোনো কাগজপত্র ছাড়াই বিদেশী প্রসাধনীর নকল মোড়কে উৎপাদিত প্রসাধনী ঢাকার লালবাগ ও চকবাজারের বিভিন্ন অসাধু পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদেও কাছে সরবরাহ করতো একটি প্রতারক চক্রটি। এমনকি অনেক অসাধু ব্যবসায়ী সেই ভেজাল পণ্য সস্তায় কিনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন দিয়ে দেদারসে বিক্রি করতো।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত গোমর ফাঁস হয়ে ধরা পড়লো সিআইডি’র একটি ভেজাল-বিরোধী বিশেষ অভিযানে। প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো: হৃদয় হোসেনকে (২৫) ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন পুরাতন ভাড়ালিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো: জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রসাধনী সামগ্রী কারখানায় উৎপাদন ও মোড়কজাত করা অবস্থায় মো: হৃদয় হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার তথ্যের ভিত্তিতে মোট ৯টি আইটেমের ১ হাজার ৭০ প্যাকেট বিভিন্ন রকম নকল ও ভেজাল বিদেশী প্রসাধনী সামগ্রী এবং ২০০ পিস খালি মোড়ক উদ্ধার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মো: হৃদয় হোসেন জানায়, বিদেশী এই সমস্ত প্রসাধনী সামগ্রী বাংলাদেশে উৎপাদন বা আমদানি হয় না। চক্রের অন্যান্য সদস্যরা বিদেশের লাগেজ পার্টির মাধ্যমে স্যাম্পল এনে তা কপি করে এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে। এ উৎপাদন সংক্রান্তে তাদের কোনো কাগজপত্র নেই। প্রসাধনী সামগ্রী তৈরি করে সে লালবাগ ও চকবাজারের বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে সরবারাহ করে এবং পরবর্তী সময়ে তারা বিদেশী প্রসাধনী বলে স্থানীয় পাইকারী ও খুচরা ক্রেতা সাধারণের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে।

এছাড়াও অনেক কাস্টমার তার কাছ থেকে মাল নিয়ে স্যোসাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে অনলাইনেও প্রচুর বিক্রি করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।