কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূলে চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনে স্বস্তিতে নেই লবণ চাষিরা। ক্রমাগত প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। এতে বিরূপ আবহাওয়ায় লবণ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান লবণ চাষিরা।
ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালীর চাষি শাহজাহান মিয়া বলেন, এ বছর চৈত্র মাসের শেষার্ধ থেকে বৈশাখের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রায় তিন সপ্তাহ লবণ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়।
কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডীর চাষি আবদু ছালাম বলেন, বৈশাখের প্রখর রোদ ও দক্ষিন-পশ্চিমা বাতাস লবণ উৎপাদনের জন্য ভরা মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে এবার সে সুযোগ পাননি চাষিরা। সর্বশেষ গত রোববার ভোরে তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারো উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লবণ উৎপাদনে অনেকটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন-বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো: জাফর ইকবাল ভূইঁয়া বলেন, একবার বৃষ্টি হলে ফের উৎপাদনে যেতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লেগে যায়। ফলে উৎপাদনে কিছুটা বেগ পেতে হয় চাষিদের।
তিনি আরো বলেন, এখনই লবণ উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হবে না। গত রোববার পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১ টন। গত বছর এই সময়ে উৎপাদন হয় ২৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৬০ টন। তাই আমরা এখনো আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাষিরা লবণ উৎপাদন করতে পারবে।
বিসিকের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও, পেকুয়া, চকরিয়া, ও টেকনাফে ৫৯ হাজার ৯৯ একর এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ায় ১০ হাজার ৮৯ একর জমিতে লবণের চাষ হয়েছে। দেশে এ বছর লবণের চাহিদা ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার টন।