ময়মনসিংহের তারাকান্দায় একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ওই নারী ছাগল বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় নিহত নারীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শনিবার তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, নিহত নারীর নাম সুফিয়া খাতুন (৩৪)। তিনি ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের পাতিলগাঁও গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের দাদরা গ্রামের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, দাদরা গ্রামের ফরিদুল ইসলামের বাড়ির পাশে দুর্গন্ধ পেয়ে তারা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খুলে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে।
নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ওই নারীর ছোট ভাই মো: ইলিয়াছ বুধবার ২ জুলাই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন তারাকান্দায় লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি থানায় গিয়ে পরনের কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শুক্রবার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওই নারীর স্বজনেরা জানায়, গত রোববার বিকেলে সুফিয়া খাতুন ছাগল বিক্রি করতে ফুলপুর উপজেলার আমুয়াকান্দা বাজারে যান। চার হাজার টাকায় ছাগল বিক্রির পর মাকে কল করে বিষয়টি জানান। এরপর তিনি দ্বিতীয় স্বামী রইছ উদ্দিনের সাথে দেখা করেন। তার স্বামী ফুলপুর উপজেলার পাগলা এলাকার বাসিন্দা এবং আমুয়াকান্দার একটি মাদরাসায় বাবুর্চির কাজ করেন। রইছ উদ্দিন তাকে রাতের খাবার খাইয়ে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার জন্য গাড়িতে তুলে দেন। এরপর সুফিয়া খাতুন এক প্রতিবেশীর সাথে দেখা করে বাড়ি ফিরবেন বলে জানান। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।
তারা আরো জানান, সুফিয়া খাতুনের আগের স্বামীর সংসারে ১২ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, ওই নারীর মোবাইলফোনটি পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই মোবাইলফোনের সূত্র ধরে রোহন মিয়া (৩৫) নামের একজনকে আটক করা হয়। তিনি দাদরা গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। যেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়, তার পাশেই রোহনের বাড়ি।
ওসি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে হলেও স্বামীর সাথে সম্পর্ক ভালো না থাকায় মায়ের সাথে থাকতেন ওই নারী।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাদের ধারণা, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে ফেলা হয়। আটক হওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে নারীর মোবাইলনটি উদ্ধার করা হয়েছে। ভিন্ন সিম লাগিয়ে ফোনটি ব্যবহার করছিলেন তিনি। কারা, কিভাবে, কী কারণে ওই নারীকে হত্যা করেছে, তা জানতে আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলেও জানান তিনি।’