ঈদের পর থেকে প্রতিদিনই কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছিল বরিশাল নদী বন্দরে। তবে শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল লঞ্চ টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ১৩টি যাত্রীবাহী লঞ্চ হাজারো মানুষের ভিড়ে টইটুম্বর হয়ে আছে। তারপরও লঞ্চে জায়গা করে নিতে হিমসিম খাচ্ছে যাত্রীরা।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা যাত্রীতে কানায় কানায় ভর্তি হয়ে উঠেছে লঞ্চগুলো।
সন্ধ্যায় বরিশাল নদী বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি লঞ্চে ঢাকামুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। প্রতিটি লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যাত্রী উঠেছে। রোববারে অফিস ধরতে বাড়ি ছাড়ছেন মানুষেরা। যাত্রীর এমন চাপ আরো কয়েকদিন থাকবে বলে জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বরিশাল নদী বন্দর থেকে সরাসরি ১১টি ও ভায়া দু’টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা।
অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের ভিআইপি কেবিনের যাত্রী মো: মিজানুর রহমান বাদশা বলেন, ‘সময় বাড়ার সাথে সাথে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন, কেবিনের দরজা পর্যন্ত খোলা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো লঞ্চের মধ্যে পা ফেলার জায়গা নেই। এমনকি লঞ্চে নামাজের জায়গাটুকু পর্যন্ত যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।’
শুভরাজ লঞ্চের যাত্রী মনির হাওলাদার বলেন, ‘পরিবার ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। তবুও অফিস শুরু হওয়ায় রওনা দিলাম।’
শারমিন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আসার সময় সারারাত লঞ্চে একইভাবে কষ্ট করে এসেছি। এখন আবার কষ্ট করে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। বিকেল ৫টা থেকে নদী বন্দরে পুলিশ ও কিছু লোকজনকে হাতে মাইক নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠা ও নির্ধারিত যাত্রী নিয়ে সময়মত লঞ্চ ছাড়ার জন্য মাইকিং করতে দেখেছি। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, রাত ৮টায় লঞ্চগুলো ছাড়ার কথা থাকলেও রাত ৯টার আগে কোনো লঞ্চ ছাড়েনি। এ অবস্থায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।’
এদিকে নদী বন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরাও রয়েছে। এছাড়া লঞ্চগুলো যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই না করতে পারে তা তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কাজ করছে।
বিআইডব্লিউটিএয়ের বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ না ছাড়ে। আমাদের সার্বিক সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছে।’