টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কবিতা (২৮) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীকে গলা কেটে হত্যা করেছে স্বামী সুজন মিয়া।
আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার বাশতৈল এলাকা থেকে ঘাতক সুজনকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় দিকে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কবিতার বাবা কদম আলী সরদার জানায়, কবিতা ও সুজন সোহাগপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে কাজ করতেন। কবিতা হামিম গ্রুপের এক্সফ্লোর গার্মেন্টসে সুয়িং অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন। সুজন মিয়া স্থানীয় ট্রাকে শ্রমিকের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে সুজন মিয়া বটি দিয়ে গলা কেটে কবিতাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
কদম আলী সরদার আরো জানান, একই এলাকার আলীমুদ্দিনের ছেলের সাথে প্রায় ১৫ বছর আগের পারিবারিকভাবে সুজন ও কবিতার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১০ বছরের ছেলে কাইয়ুম ও সুমাইয়া নামে ৮ বছরের মেয়ে রয়েছে। ৮ বছর আগে সুজন কাজের সন্ধানে পরিবার নিয়ে মির্জাপুর উপজেলার সোহাগপুর আসে। সংসারে টানাপোড়ান থাকায় কবিতা দু‘বছর আগে হামিম গ্রুপে চাকরি নেন। চাকরি নেয়ার পর থেকেই সুজন নিয়মিত উপার্জন কমিয়ে দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। বৃহস্পতিবার ঝগড়া শুরু হলে মেয়ের ডাক-চিৎকারে এগিয়ে গেলে দেখেন মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। সুজন পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সুজন ও তার মা-বাবাসহ তিনজন আসামি করে মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে নয়া দিগন্তকে জানান তিনি।
মির্জাপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা পাষন্ড স্বামী সুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।