অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া সানজিদা আক্তার। স্কুলের বেতন কিংবা পড়ালেখার খরচ সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়া ছিল তার কাছে স্বপ্নের মতো। ক্যান্সার রোগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম বাবাকে হারানোর পর নেমে আসে দুঃস্বপ্নের রাত। থমকে গেছে জীবন। থমকে গেছে পড়ালেখা।
দু’বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সানজিদা সবার ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে অন্য জায়গায়। তাদের একমাত্র ভাই খৈয়াছড়া বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি পেট্রোল পাম্পে কাজের আয় দিয়ে পার করছে জীবন। টানাপোড়েনের পরিবারে দু’ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি সানজিদার।
সানজিদার এমন জীবনের গল্প বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর অর্থের অভাবে থেমে থাকেনি সানজিদা আক্তারের স্বপ্ন। সামাজিক সংগঠন ’ইগনাইট মিরসরাইয়ের’ সহযোগিতায় আবারো স্কুলে ফিরছে সানজিদা। সামাজিক সংগঠনটি সানজিদার বিদ্যালয়ের ভর্তি ফি, বেতন, পরীক্ষার ফি-সহ সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েছে। সানজিদার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা উপকরণ।
এ সময় সাংবাদিক আশরাফ উদ্দিন, ইগনাইট মিরসরাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরশেদ আহমেদ, সদস্য আজিমুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমে সানজিদা আক্তারের পড়াশোনার বিষয়ে সংবাদটি চোখে পড়ার সাথে সাথে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তার শিক্ষার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অবশেষে আমরা তার মায়ের হাতে বিদ্যালয়ের ভর্তি ফি, বেতন, পরীক্ষার ফি বাবদ নগদ টাকা তুলে দিয়েছি। এছাড়া চলতি বছরের জন্য প্রয়োজনীয় সকল শিক্ষা উপকরণও আমরা দিয়েছি। আমাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে’
ইগনাইট মিরসরাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা মিরসরাইতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করছি। এই যুগে এসে অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে সেটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। শুধু সানজিদা আক্তার নয় মিরসরাইতে অর্থের অভাবে কেউ পড়াশোনা করতে না পারে তারও দায়িত্ব নেবে প্রতিশ্রুতিশীল সামাজিক সংগঠন ইগনাইট মিরসরাই।