রাজশাহীর দুর্গাপুরে গবাদিপশুর শরীরে দেখা দিয়েছে ‘লাম্পি স্কিন’ ডিজিজ (এলএসডি) নামের ভাইরাস রোগ। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে সম্প্রতি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকটি গরু মারা গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা।
এদিকে রোগটির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে বাইরের দেশ থেকে ভ্যাকসিন ক্রয় করে প্রতিষেধক হিসেবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লাম্পি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।
খামারিরা বলছেন, রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত পরামর্শও দিচ্ছেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিনের ঘাটতি রয়েছে। নিরুপায় হয়ে গ্রামের অনেক খামারিরা কিছু হাতুড়ে পশু ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। তাদের ভুল চিকিৎসায় আক্রান্ত অনেক গবাদিপশু সুস্থ না হয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
বুধবার (৭ মে) সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দেখা হয় পানানগর এলাকার জাফর নামে এক খামারির সাথে। তিনি বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে এসে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ নিয়ে আক্রান্ত গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে। খবর দিলে বাড়িতে গিয়ে ডাক্তার চিকিৎসা দিয়ে আসেন। তবে আমার আরো তিনটি গরু আছে। লাম্পি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এ অবস্থায় গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। ইতোমধ্যে এ ভাইরাসে এলাকায় কয়েকটি গরু মারা গেছে।’
জানা যায়, উপজেলার জয়নগর, দেলুয়াবাড়ি, দেবীপুর,পানানগরসহ কয়েকটি এলাকায় এ রোগ দেখা দিয়েছে। যা ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামে গ্রামে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক গরুর মৃত্যুও হয়েছে। অনেক খামারি ও কৃষক লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু বিক্রি করছেন কম দামে। প্রতিনিয়ত এ সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।
এদিকে বর্তমান সময়ে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে পশুর মালিকদের।
উপজেলার দেবীপুর গ্রামের জাহিদ বলেন, ‘খামারের একটি বড় গরুর পা ফুলে সারা গায়ে ফোসকা বের হয়েছে। বড় গরুটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, শরীর পচে গর্ত হয়ে গিয়েছিল। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছে। কিন্তু তার কিছুদিন পরে আবার ছোট বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছি। বাছুরটির অবস্থা বেগতিক।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র বলছে, উপজেলায় বেড়ে চলা ভাইরাস ‘লাম্পি স্কিন’ -এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। রোগের ভ্যাকসিন রয়েছে তবুও সেটি চাহিদার তুলনায় পর্যন্ত নয়। তবে প্রাথমিক লক্ষণ দেখে আক্রান্ত পশুকে অ্যান্টিহিস্টামিন ও প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হলে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘লাম্পি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গবাদিপশু খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে। গায়ে গুটি গুটি ফোড়ার মতো হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়। একটি গরু সুস্থ হতে প্রায় কয়েক মাস সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে অসুস্থ গরুটিকে প্রথমেই আলাদা করতে হবে। পরে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে, যেন মশা বা মাছি গরুর শরীরে না বসে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংক্রমণ গবাদিপশুর শরীরে মশা বা মাছি অসুস্থ গরুটিকে কামড় দিয়ে যদি সুস্থ কোনো গরুকে কামড়ায় সেক্ষেত্রে অন্য গবাদিপশু আক্রান্ত হয়ে পড়বে। লাম্পি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে উপজেলায় প্রায় ৫৪০ জন খামারির সাথে পরামর্শ প্রদান, লিফলেট বিতরণসহ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’