সাভারে রানা প্লাজা ধসের এক যুগ পার হলেও এখনো শুকায়নি মিলার পিঠের ক্ষত। মিলা বেগম (৩২) রানা প্লাজার ছয় তলার ইথারটেক লিমিটেড গার্মেন্টস কারখানার সিনিয়র অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

২০১৩ সালে ভবন ধসের আগের দিনের কথা। ২৩ এপ্রিল ইঞ্জিনিয়ার পরীক্ষা করে ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলার পর, ভবন ফাটল ধরার খবর শ্রমিকদের মধ্যে জানাজানি হয়। পর দিন শ্রমিকরা কাজে আসবে না এমন খবরে মালিকপক্ষ মাইকে ঘোষণা করছিল, পর দিন ২৪ এপ্রিল যে সকল শ্রমিক কাজে যোগদান করবে না তাদের দু’মাসের টাকা কেটে নেয়া হবে।

মিলা বেগম বাবা হারা একমাত্র মেয়ে তানজিলা আক্তার নিপার দিকে চেয়ে পর দিন সকালে কারখানার সামনে এলে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবনের ভেতরে ঢুকতে না চাইলেও গেটে তাদের লাঠি দিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

পরে কাজে যোগ দিয়ে মেশিনে কাজ করা অবস্থায় সকাল পৌনে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন রানা প্লাজার জেনারেটর চালু করার সাথে সাথে ভবন ধসে পড়লে মিলা তার পা মাটি লাগার অনুভব করেন। ওই সময় তার ডান হাতটি চাপা পড়ে এবং পিঠের অংশের চামড়া ছিলে যায় এবং ডান ভবনের চাপে আটকা পড়ে। ওই সময় তার সাথে থাকা মোবাইলে তিনি একটি মেসেজ পাঠান।

তখন উদ্ধার কর্মীরা তার চিৎকার শুনে আটকে পড়া ডান হাত উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা করেন। ডান হাতটি উদ্ধার করতে পারলেও মুহূর্তের মধ্যে ভবনের একটি ভীম তার পিঠসহ নিচের অংশের ওপর পড়লে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে ঘটনার দিন রাতে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার কয়েক দিন পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আইসিওতে ২৭ দিন পর জ্ঞান ফিরে। জ্ঞান ফেরার পর তিনি ডাক্তারের কাছে জানতে পারেন তিনি আর কখনো মা হতে পারবেন না। তার একটি কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। প্রশ্রাবেরস্থানসহ পিঠে ক্ষত হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ কথাগুলো নয়া দিগন্তের প্রতিবেদকের কাছে বলছিলেন মিলা বেগম।

তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, রানা প্লাজা ধসের এক যুগ পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ক্ষতি পূরণ পেলাম না। শুধুমাত্র ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে ৮৪ হাজার টাকা পেলেও তা থেকে কেটেকুটে মাত্র ৩৪ হাজার টাকা পেয়েছেন। এ পর্যন্ত আর কোনো টাকা পাননি।

প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ওষুধ খেতে হয়। ওষুধ খেতে খেতে তার পেটে ক্ষত হয়ে গেছে। ডান হাত, পিঠ এবং পেটে ব্যান্ডেজ নিয়ে চলাফেরা করছেন।

মিলার গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদরে হলেও তিনি বর্তমানে সাভার থানা রোডের সিটিলেন এলাকায় ভাড়া ঘরে থাকেন। তার একমাত্র মেয়ে তানজিলা আক্তার নিপা খালার বাসায় থেকে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।