গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে এম কে ফুটওয়্যার কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে শনিবার (৩১ মে) বিক্ষোভ করছে। এসময় তারা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে মাওনা-শৈলাট গাজীপুর আঞ্চলিক সড়ক অন্তত দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দেয়। পরে সকাল ১০টার দিকে এপ্রিল ও মে মাসের বেতনের দাবিতে তারা কারখানা অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে কারখানার বাইরে এসে সড়কে অবস্থান নিয়ে মাওনা-শৈলাট গাজীপুর আঞ্চলিক সড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এসময় সড়কে চলাচলকারী ছোট ছোট যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে। পরে বৃষ্টি শুরু হলে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গিয়ে আশপাশের দোকান ও কারখানার ভিতরে অবস্থান নিলে দুপুর ১২টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়।
শ্রমিকরা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক সংকটের অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের এপ্রিল ও মে মাসের বেতন বকেয়া রেখে কারখানার ছুটি বাড়িয়ে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দিয়েছিল। তখন বকেয়া বেতন না দিয়ে কর্তৃপক্ষ ছুটি বাড়ানোয় তারা বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে কারাখানার মালিক এসে তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন মঙ্গলবার (২৭ মে) কারখানা খুলে দেয়া হবে এবং বৃহস্পতিবার (২৯ মে) তাদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বকেয়া বেতন না দিয়ে শুধু বোনাস দিয়েছে। অল্প টাকা বোনাস পেয়ে আমরা কিছুই করতে পারব না।
শ্রমিক রোজিনা, শাহীনূর ও রাসেল বলেন, ‘মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বেতন দেই-দিচ্ছি বলে টালবাহানা করছে মালিক। এক সময় কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে রাখে। অর্থনৈতিক সংকটের অজুহাতে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। পরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বকেয়া বেতনসহ বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলেও শুধু বোনাস পরিশোধ করেছে। সামনে ঈদ। ঘর ভাড়া, দোকান বাকি রয়েছে, ছেলে-মেয়েদের কেনাকাটা কিছুই করতে পারি নাই। দুই মাসের বকেয়া না দিলে আমরা এবার ঈদ করতে পারব না।’
গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর (শ্রীপুর জোন) আব্দুল লতিফ খান বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধ করেনি। তাই শ্রমিকেরা তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে সকাল থেকে বিক্ষোভ করছে।
এম কে ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানার প্রশাসনিক (এডমিন ম্যানেজার) ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা চলছে। শ্রমিকদের সকল বকেয়া পরিশোধ করে দেয়া হবে।’