ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও ত্রিশালে নিখোঁজের পরদিন দু’টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহষ্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দু’টি রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের কবিরাজবাড়ি গ্রামের কচুক্ষেত ও ত্রিশাল উপজেলার নিঘুরকান্দা গ্রামের একটি পুকুর থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- গৌরীপুরের কাউলাটিয়া গ্রামের আব্দুল গণির মেয়ে হোসনে আরা (৩০) ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার তাঁতখানা গ্রামের আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (৩৫)।
সূত্রে জানা গেছে, হোসনে আরা দীর্ঘদিন যাবত মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে বাসায় পাওয়া যাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। পরদিন দুপুরের দিকে লাশ কবিরাজবাড়ি গ্রামের কচুক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অন্যদিকে, মনির হোসেন ২৫ বছর যাবত ত্রিশালের হরিরামপুর ইউনিয়নের নিঘুরকান্দা গ্রামে তার ভগ্নিপতি বাড়িতে বসবাস করছিলেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে ভগ্নিপতির বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন মনির। পরিবারের লোকজন রাতভর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পায়নি। পরদিন বুধবার দুপুরের দিকে স্থানীয়রা পুকুরে এক ব্যক্তির লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরের লাশ উদ্ধার করে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, লাশের গলায় কলাগাছের ডাগগা প্যাঁচানো ছিল, যা হত্যার আলামত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ বলেন, মনির মানসিকভাবে অসুস্থসহ নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।