টানা কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহের পর চুয়াডাঙ্গায় স্বস্তির বৃষ্টিতে জনজীবনে প্রশান্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিক থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া ও একপশলা বৃষ্টিতে বদলে যায় দীর্ঘদিনের গুমট আবহাওয়া।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ সময়ে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছিল চুয়াডাঙ্গায়। তীব্র থেকে অতিতীব্র তাপপ্রবাহে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল জনজীবন। দিনের অধিকাংশ সময় মানুষ ঘরের বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত ছিল। শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষই প্রখর রোদ ও গরমের কাছে যেন অসহায় হয়ে পড়েছিল।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৪ শতাংশ। এর আগে এই মে মাসেই দেশের সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায়।
গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আনিসুজ্জামান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরম পড়ছিল। বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। আজকের এই বৃষ্টি যেন আমাদের কষ্ট একটু হলেও লাঘব করল।’
জীবননগর উপজেলার উথলি গ্রামের বাসিন্দা হাসান বলেন, ‘সূর্যের প্রচণ্ড তাপে আমরা অনেকদিন ধরে কষ্টে ছিলাম। দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হলেও চুয়াডাঙ্গায় হচ্ছিল না। অবশেষে আজকের এই বৃষ্টি আমাদের জন্য একরাশ প্রশান্তি নিয়ে এলো।’
জানা গেছে, ঝড়ো বাতাসের সাথে বৃষ্টি নামতেই মুহূর্তেই কমে আসে গরমের তীব্রতা। শীতল বাতাস ও পানির ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পায় প্রকৃতি, স্বস্তি ফিরে আসে মানুষের মাঝে। চুয়াডাঙ্গার অনেক এলাকাতেই বৃষ্টির পরে রাস্তাঘাটে পানি জমে যায়। তবে এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বৃষ্টির ফলে গরম কমে যাওয়ায় কৃষি ও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন চুয়াডাঙ্গার কৃষক ও পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা।