নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার পরিবারের সদস্যদের হাতাহাতিতে মো: আবুল বাশার (৭০) নামে বাড়িওয়ালার মৃত্যু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় নারায়াণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনাদি নতুন মহল্লা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাড়াটিয়ার পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

আটকরা হলেন- মো: তছর উদ্দিনের ছেলে সোহাগ হোসেন (২৯), সোহাগের স্ত্রী আলেহা বেগম (২২) এবং সোহাগের মা ফাতেমা বেগম (৪৫)।

সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে ভুক্তভোগীর বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন অভিযুক্তরা। গত তিন মাস ধরে ঘর ভাড়া পরিশোধ করেননি তারা। এতে বাড়ির মালিক সোহাগ হোসেনকে বাড়ি ছাড়ার কথা জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সবশেষ গতকাল সোমবার রাতে বাড়ির মালিক সোহাগ হেসেনের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সোহাগ বাসায় গেট আটকানো দেখতে পান। তখন বাড়িওয়ালার ছেলে নাফিজকে (৩৫) গেট খুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে গেট খুলে দিয়ে নাফিজ উচ্চ মেজাজে ভাড়াটিয়া সোহাগের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় তাৎক্ষণিক নাফিজের ভাই বাধন (৩২) ঘটনাস্থলে এসে বাকবিতণ্ডায় যুক্ত হন। দুই ভাই মিলে ভাড়াটিয়া সোহাগের সাথে হাতাহাতিতে জড়ান। ঝগড়ার আওয়াজ শুনে সোহাগের স্ত্রী ও তার মা এবং বাড়িওয়ালা আবুল বাশার এসে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঝগড়া থামাতে গিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আবুল বাশার ধাক্কা লেগে পরে যান। পরে তাৎক্ষণিক আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে পরে খানপুর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধস্তাধস্তিকালীন ভাড়াটিয়াদের নয় বরং নিজের ছেলে নাফিজের ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, তিন মাসের ঘর ভাড়া পাওনা নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। তখন আবুল বাশারকে ভাড়াটিয়ারা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তিনি আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে খানপুর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। আমরা ভাড়াটিয়াদের সাথে সাথে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।