বরিশালের গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইউনুস মিয়া এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী।
মঙ্গলবার বরিশালের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দায়ের করা এ মামলায় বাদি সুমা বেগম অভিযোগ করেছেন, পুলিশ কর্মকর্তা দু’জন তার পরিবারের প্রতি চরম অবিচার করেছেন এবং দুর্বৃত্তদের সহযোগিতা করেছেন।
সুমা বেগম গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের প্রবাসী আজাদ সরদারের স্ত্রী।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১১ এপ্রিল সকালে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত পূর্বপুরুষের কবরস্থান ভাঙচুর করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে এসআই নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টা তাকে ও তার পক্ষের তিনজন সাক্ষীকে থানায় আটক করে নিয়ে যান।
অভিযোগে আরো বলা হয়, থানায় নিয়ে গিয়ে ওসি ইউনুস মিয়া ও এসআই নজরুল ইসলাম ওই তিনজনকে ছেড়ে দেয়ার জন্য এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের রাত ৯টা পর্যন্ত বেআইনিভাবে থানায় আটকে রাখা হয়। এর ফলে, সুযোগ পেয়ে দুর্বৃত্তরা বাধাহীনভাবে কবরস্থান দখলের কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
সুমা বেগম আরো জানান, তিনি ঘটনাটি লিখিতভাবে ১৩ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশাল কার্যালয়ে জানান। তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলার বিষয়ে বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দীন আহমেদ পান্না জানান, দুর্নীতি দমন আইনে দায়ের করা মামলাটি বিচারক পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছেন। মামলায় ওসি ইউনুস মিয়া ও এসআই নজরুল ইসলামকে এক নম্বর এবং দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওসি ইউনুস মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘুষ চাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে।’