সাভারের বিরুলিয়া ব্রীজ এলাকার ফুড কোর্ট মার্কেটে দোকানিদের নিকট ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিল্লাল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় দোকানিরা সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল ) দুপুরে নয়া দিগন্তকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার এসআই আব্দুল ওহাব।

আটক বিল্লাল বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাকাব এলাকার এনায়েত উল্লাহর ছেলে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাকাব এলাকার মরহুম কফিল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ মামুন (৩০), এনায়েত উল্লাহর ছেলে মো: বিল্লাল (২৭), আলি আশরাফ (২৮), জসীম উদ্দীন (২০), দেলোয়ার হোসেন (২৮), মেহেদী (২৪) এবং ইউসুফ মোল্লার ছেলে কাউসার মোল্লা (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জন।

এসআই আব্দুল ওহাব জানান, গ্রেফতার বিল্লালকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। রোববার তার শুনানি হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ২ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে অভিযুক্তরাসহ আরো প্রায় ২৫/৩০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মার্কেটের ৬০টি দোকান বাবদ ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সব রেস্টুরেন্টের খাবার ফেলে দেয়। এ সময় চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে এবং সব দোকান বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এ খবর পেয়ে বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ৮নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার শাহীনুর রহমান শাহীন মীমাংসা করার জন্য গেলে দোকান মালিক কর্তৃপক্ষ মেম্বারের মীমাংসা মেনে নিলেও মামলার ১নম্বর আসামি মামুন ও ২নম্বর আসামি বিল্লাল তার মীমাংসা মেনে না নিলে পরবর্তীতে দোকান মালিকদের পক্ষে মামুন বাদী হয়ে (৩ এপ্রিল) সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় যৌথবাহিনী ২ নম্বর আসামি বিল্লালকে আটক করে।

মার্কেট মালিক ও মামলার বাদী মো: মামুন বলেন, ‘তারা আমাদের মার্কেটের ৬০টি দোকান বাবদ ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে তা দিতে না পারায় আমাদের দোকান ভাংচুর করেন। এতে প্রায় ৫লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আটক বিল্লাল যুবদল করেন। আর মামলার ১নম্বর আসামি মামুন ৫ আগস্টের আগে যুবলীগ করতো।’

বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় মেম্বার শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি মীমাংসা করার অনেক চেষ্টা করলেও বিল্লাল তা কোনোভাবেই মানেন নি। বিল্লাল আমাদের যুবদলকর্মী।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাঁদাবাজি করিও না এবং কোনোভাবেই তা প্রশ্রয় দেই না।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জুয়েল মিয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’