টাঙ্গাইলে মির্জাপুরে পুলিশ সেজে ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়া দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে একটি মাইক্রোবাস।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দেরুয়া আন্ডারপাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন ঢাকার শ্যামপুর থানার করিমুল্লাহ বাগ এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে কাউছার আকরাম (৫৭) ও চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালমারী থানার পূর্ব গুমদণ্ডী এলাকার মরহুম শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে মো: শতকত আলী।

দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নূর নবী বলেন, রাতে মহাসড়কে টহলরত অবস্থায় মহাসড়কের দেরুয়া এলাকায় একটি নোয়া গাড়ির (মাইক্রোবাস) পাশে কয়েকজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এগিয়ে গেলে তারা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেয়। তাদের কাছে পুলিশের ওভারকোট ও হ্যান্ডকাফ ছিল। তাদের পরিচয় চ্যালেঞ্জ জানালে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

নূর নবী আরো বলেন, ‘আমার সাথে থাকা দু’জন কনস্টেবল তাদের ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। আমি দু’জনকে আটক করতে সক্ষম হই। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হওয়া একটি নোয়াহ গাড়ি, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি পুলিশ ব্যাগ ও তিনটি ওভারকোট (পুলিশের পোশাক) জব্দ করা হয়।’

জব্দকৃত গাড়ির মালিক মুহাইমুনিল ইসলাম বলেন, ‘আমি এসিআই কোম্পানির ঢাকাস্থ করপোরেট অফিসে চাকরি করি। গাড়িটি আমি ব্যবহারের পাশাপাশি ভাড়া দেই। নিজেদের পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় উবারের মাধ্যমে আমার গাড়িটি ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার জন্য ভাড়া করে। রাত ৩টার দিকে আমার ড্রাইভার শওকত আমাকে ভয়েচ বার্তার মাধ্যমে জানান যে যারা গাড়ি ভাড়া করেছেন তাদের আচরণ সন্দেহজনক।’

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কারে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মির্জাপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো: জুয়েল মিয়া বলেন, গ্রেফতারদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।