‘আওয়ামী লীগকে ও জাতীয় পার্টিকে বাদ দিলে অর্ধেক লোক নিয়ে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন কোনো সময়ই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বলা যাবে না,’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
শনিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুর জিলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জি এম কাদের বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সঠিকভাবে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে হবে। এটি আমাদের পরিষ্কার কথা। উত্তরপাড়া রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। এখন পর্যন্ত আমাদের বিপদ-আপদ যারই হয়েছে নাগরিকদের। পুলিশ অকার্যকর হওয়ায় সেনাবাহিনী যেখানে গেছে সেখানেও আমরা কিছুটা হলেও নিরাপত্তা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত মানুষের ভরসা হলো, বিপদ হলে যদি কেউ না দেখে সেনাবাহিনী হয়তো দেখতে পারে। কাজেই তাদের ডিস্টার্ব করা, তাদের সম্পর্কে মন্তব্য করে কথা বলে জনস্বার্থে অনুকূল নয়।’
জাতীয় পার্টির এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘প্রতিযোগী কমিয়ে দেয়ার রাজনীতি কখনই সফল হবে না। এটা তারা চেষ্টা করতে পারেন। তবে শেখ হাসিনা চেষ্টা করেছে তবে পারেন নাই। অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো পারবেন। তবে তারা চেষ্টা করে দেখতে পারেন।’
জি এম কাদের বলেন, তোমরা জনসম্মুখে থাকো। কারণ তোমাদের যেন মানুষ ভুলে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তারা পাঁয়তারা করছে। এসব পাঁয়তারা আমরাও ওয়াকিবহাল আছি। এসব পাঁয়তারা মোকাবেলা আমরা জীবন দিয়ে হলেও করবো। যেখানেই আমাদের বাধা দেয়া হবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। জীবন দিয়ে হলেও সেটা আমরা করবো।
গ্রেফতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমাকে একজন বলেছে, ঢাকা গেলেই আমাদের গ্রেফতার করা হবে। আপনি রংপুরে থাকেন। সেখানে আপনাকে গ্রেফতার করতে পারবে না। আমি অ্যারেস্ট হওয়ার জন্য ভয় করি না। রংপুরের লোক গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসায় না। তারা সব সময় অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। সারাদেশ একদিকে, রংপুরের লোক একদিকে গিয়ে এরশাদ সাহেবকে রক্ষা করেছে। আমাদের ইতিহাস নুরুল দিনের ইতিহাস। জাগো বাহে, কোনঠে সবাই। আবারো আন্দোলন শুরু হবে রংপুর থেকে।’
কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন লেবু, সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন, হাসানুজ্জামান নাজিমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।