নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই বোন ও একজনের শিশু সন্তানকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে মাটিচাপা দিয়ে গুমের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত লামিয়ার বড় বোন মুনমুন আক্তার।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাতে এ মামলা রুজু হয়। মামলায় নিহত লামিয়ার স্বামী আটক ইয়াছিনসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর দুই আসামি হলেন ইয়াছিনের বাবা দুলাল মিয়া ও ছোট বোন শিমু।
এদিকে, শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের আদালতে আসামি ইয়াছিনকে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো: কাইউম খান।
গত ৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া বড় বাড়ি এলাকার পোশাকশ্রমিক লামিয়া আক্তার, তার চার বছর বয়সের সন্তান আব্দুল্লাহ ও লামিয়ার প্রতিবন্ধী বড় বোন স্বপ্না আক্তার। নিখোঁজের চার দিন পর বাসার পাশে রাস্তা খুঁড়ে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় উদ্ধার হয় তিনজনের খণ্ড-বিখণ্ড লাশ।
মামলায় মুনমুন উল্লেখ করেন, লামিয়া সিদ্ধিরগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং পাঁচ বছর আগে ইয়াসিনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ইয়াসিন কোনো কাজ করতেন না এবং সংসারের খরচের জন্য প্রায়ই লামিয়াকে নির্যাতন করতেন। মাদকাসক্ত ইয়াসিন প্রায় সময় স্ত্রীকে হত্যার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুনমুন দাবি করেন, ইয়াসিন তার বাবা ও বোনকে সাথে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার দুই বোন ও ভাগ্নেকে হত্যা করেন। পরে লাশগুলো গুম করতে আবর্জনার স্তুপে চাপা দিয়ে রাখেন।
ঘটনার আগে ৭ এপ্রিল দুপুরে মুনমুন তার বোনদের সাথে শেষবারের মতো কথা বলেন। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনু আলম বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান চলছে।