কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজার, বাসস্টেশন এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঁশঘাটা বাজার এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে টানা দ্বিতীয় দিনেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাটের বর্ধিত অংশ, সাইনবোর্ড ও অস্থায়ী ছাউনি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মংচিংনু মারমা। জনস্বার্থে পরিচালিত এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার, পুলিশ ও আনসার সদস্যের চৌকস দল এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়া ঈদগাঁও সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী ও জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি সশরীরে উপস্থিত থেকে অভিযানে সহযোগিতা করেন।

সকালে বাঁশঘাটা বাজার থেকে অভিযান শুরু হয়ে ঈদগাঁও বাজারের ডিসি সড়ক এবং মূল অংশের অলিগলি এর আওতার আসে। এ সময় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মুদির দোকানের বাইরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বর্ধিত অংশ ভেঙে দেয়া হয়। পাশাপাশি, ব্যবসায়ীদের দোকানের সীমানার বাইরে মালামাল না রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়। মহাসড়ক ও বাজারের প্রধান সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি দৃশ্যমান বিভিন্ন সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়। অভিযান চলাকালে বাসস্টেশন এলাকায় নিয়ম অমান্য করায় এক ব্যবসায়ীকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। উল্লেখ্য, আগের দিনের অভিযানে দুই দোকানদারকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা ও একজনকে আটক করা হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী এই বাজারের ফুটপাত ও সড়ক বেদখল থাকায় পথচারীদের নিয়মিত চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হতো। জনস্বার্থে যানজট নিরসন ও দখলমুক্ত করতে মাসাধিককাল পূর্বে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নোটিশ দিয়েছিলে উপজেলা প্রশাসন। নির্ধারিত সময় শেষে গত মঙ্গলবার থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মংচিংনু মারমা জানান, স্টেশন ও বাজারের ফুটপাত এবং সড়ক পুরোপুরি অবৈধ দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।