চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৯ দফা পুশইনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ঘটনায় প্রায় ৭৮ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে বিএসএফের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধীন ১৯টি বিওপি ও একটি আইসিপির মাধ্যমে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা ৮১টি নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
বিজিবি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এসব পরিস্থিতিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে পুশইনের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের চোরাচালানবিরোধী অভিযানে সাতজন আসামিসহ একটি পিস্তল, একটি এয়ারগান, ১৯টি স্বর্ণের বার (ওজন দুই হাজার ২১৯ দশমিক ৯৫ গ্রাম), তিন হাজার ৮৩৭ গ্রাম রুপার বল এবং ২১২ লিটার ডিজেলসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার এসব মালামালের মোট সিজার মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা।
অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানে চারজন আসামিসহ দুই হাজার ১৬৪ বোতল মদ, তিন হাজার ২৭৯ বোতল ফেন্সিডিল, হেরোইন, ৪১ দশমিক দুই কেজি গাঁজা, এক হাজার ৫৭৪ পিস ইয়াবা, ১১ হাজার ৪০৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, তিন হাজার ৯৮০ পিস ভায়াগ্রা, তিন হাজার ৪১৬ পিস সেনেগ্রা এবং এক লাখ ৪১ হাজার ৭৯৯ পিস অন্য ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। উদ্ধার মাদকের আনুমানিক মূল্য ১৮ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিটি সদস্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সর্বদা নিবেদিত। পুশইন প্রতিরোধসহ যেকোনো সীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি দেশের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।