সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপগ্রামে শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলার টঙ্গী থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার যোগে তিন পরিবারের ২০ জন সদস্য বিনোদনের জন্য বেড়াতে এলে ফুল ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বাগানের মালিক ও তার দু’ ছেলে অন্তত পাঁচজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহতদের গাজীপুরের তাজউদ্দিন মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতরা হলেন মাসুম (২০) ও পল্লব (৩৫)। অন্যরা হলেন আব্দুল রহিম, পপি আক্তার ও ডলি আক্তার।
সাভার মডেল থানা ও বিরুলিয়া ইনচার্জ (এসআই) আব্দুল ওহাব সোয়া ১০টায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারদের সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টঙ্গী থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার যোগে তিন পরিবারের ২০ জন সদস্য বিনোদনের জন্য বেড়াতে এলে তাদের মধ্যে একটি শিশু গোলাপ গাছ থেকে একটি ফুল ছিঁড়ে তার হাতে তুলে নেয় এবং ছবি তোলে।
এ সময় বাগানের মালিক সোহরাব (৫৯) ঘুরতে আসা ব্যক্তিদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেন এবং গোলাপ গাছ থেকে ফুল ছেঁড়ার কারণে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতন্ডা লেগে যায়। পরবর্তী সময়ে বাগান মালিকের দু’ ছেলে শাহিন (৩০) ও শাকিল এলে তারা ফুল তোলা কাঁচি দিয়ে ঘুরতে আসা মাসুম এবং পল্লবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করলে তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসা পপি আক্তার, ডলি আক্তার ও আব্দুর রহিমকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
এ ঘটনায় গোলাপগ্রামে ঘুরতে নারী-পুরুষ ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদেরডাক-চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন জড়ো হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় রাতে বেড়াতে আসা আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তি সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ঘটনা সম্পর্কে গাজীপুর থেকে ঘুরতে আসা ইকবাল নামের এক ব্যক্তি জানান, আমরা তিনটি পরিবার নারী-পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ২০ জন দুপুরের খাওয়া নিয়ে বিকেলে গোলাপগ্রামে ঘুরতে আসি। শিশুরা বাগানে ঢুকে ছবি উঠানোর পর একটি শিশু গাছ থেকে একটি গোলাপ ছেঁড়ামাত্র আমাদের হামলা-মারধরসহ ফুল তোলা কাঁচি দিয়ে আক্রমণ করে রক্তাক্ত জখম করে বাগানের মালিক সোহরাব ও তার দু’ ছেলে।