চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মাদরাসা ছাত্র মো: আফরান নুর আবির (৮) অপহরণের ঘটনায় জড়িত দু’জনকে মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা ও অপহরণ কাজে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুর বোয়ালখালী থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) মো: আরিফুল ইসলাম।

গ্রেফতার সিএনজি চালক নুরুল আলম (৩৬) বাঁশখালী উপজেলার দক্ষিণ সাধনপুর সওদাগর পাড়ার লাইলা বাপের বাড়ির মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে এবং মো: ইকবাল (২৭) যশোর জেলার বেনাপোল থানার দুর্গাপুর গ্রামের মো.আয়াতুল্লাহর ছেলে।

এসময় তার কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়। অপরদিকে মুক্তিপণের টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ মার্চ দুপুরে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের নজর মোহাম্মদ বাড়ির নুরুল আজিমের ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র মো: আফরান নুর আবির নিখোঁজ হয়।

পটিয়া সার্কেল মো. আরিফুল ইসলাম জানান, গত ২৫ মার্চ দুপুরে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নজর মোহাম্মদ বাড়ির নুরুল আজিমের ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মো: আফরান নুর আবির (৮) নিখোঁজ হয়। পরবর্তিতে তাকে কোথাও না পেয়ে তার পিতা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

একই দিন গভীর রাতে আবিরের পিতার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বার্তা দেয় অপহরণকারীরা। তারা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিতের জন্য আবিরের একটি ছবিও পাঠায়। পরবর্তিতে অপহরণকারীদের দাবি অনুযায়ী টাকা প্রদানে রাজি হলে তারা মোবাইল ব্যাংকিং নগদের একটি নম্বরে মুক্তিপণের টাকা পাঠান । বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের শনাক্ত করে। ওই সূত্র ধরে ২৬ মার্চ দুপুরে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বাহার সিগন্যাল এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে থেকে আবিরকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর শিশুটির পিতা বোয়ালখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পরই রাতে অভিযান চালিয়ে বাঁশখালী উপজেলার দক্ষিণ সাধনপুর সওদাগর পাড়ার লাইলা বাপের বাড়ির মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে সিএনজি চালক নুরুল আলমকে(৩৬) গ্রেফতার করে।

এসময় তার কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়। অপরদিকে যশোর জেলার বেনাপোল থানার দুর্গাপুর গ্রামের মো: আয়াতুল্লাহর ছেলে মো: ইকবালকে (২৭) মুক্তিপণের টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

বোয়ালখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারে জন্য অভিযানের প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল খুবই সর্তকতার সাথে। নানা ধরণের ফাঁদ তৈরি করতে হয়েছিল। এতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা ডিবি পুলিশ, বাঁশখালী থানা পুলিশ, যশোর জেলার শার্শা থানা পুলিশসহ একাধিক টিম বোয়ালখালী থানা পুলিশকে সহায়তা করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক গোলাম সরোয়ার।

ওসি জানান, অপহরণের ঘটনা জড়িত অপরাপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।